চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রাম সংলগ্ন মাঠের ভেতর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের পুরাতন ব্যাটারি মজুদ রাখা ও ব্যাটারি পুড়িয়ে এলাকার পরিবেশ ও বায়ু দূষণ করার অপরাধে আব্দুর রহমান (৫০) নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকালে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাগর দে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, পরিদর্শক মো. নাইম হোসেন, হিসাবরক্ষক লক্ষিকান্ত কুমারসহ জীবননগর থানা পুলিশের একটি টিম।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার বেচাদহ মজমাগঞ্জ এলাকার মিন্না বেপারীর ছেলে আব্দুর রহমান জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রাম সংলগ্ন মাঠের ভেতর নির্দিষ্ট এরিয়া ঘিরে রেখে দু’মাস আগে একটি কারখানা তৈরি করেছেন। তিনি সেখানে প্রুচর পরিমাণে ট্রাক, বাস, আইপিএসসহ বিভিন্ন যানবাহনের পুরাতন ব্যাটারি মজুদ করে সেই ব্যাটারি পুড়িয়ে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছিলেন।
এমন অভিযোগ পেয়ে মঙ্গলবার বিকালে ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ সংশোধিত ২০১০ এর ৬(গ) অমান্য করে দূষণ কার্যক্রম পরিচালনার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ করাই কারখানার ব্যবস্থাপক আব্দুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া কাঁচামাল, পুরাতন ব্যাটারী ও যন্ত্রপাতি জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের নিকট জিম্মায় রাখা হয়েছে। একইসাথে পরবর্তীতে উক্ত স্থানে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হলে বড় ধরনের শাস্তি প্রদান করা হবে মর্মে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় দু’মাস ধরে খয়েরহুদা গ্রামের বয়ারগাড়ি নামক মাঠের মধ্যে অবৈধভাবে ব্যাটারি তৈরির ফ্যাক্টরি গড়ে উঠেছে। এখানে প্রতিদিন রাতে পুরাতন ব্যাটারির মধ্যে থাকা ক্ষতিকারক সিসা ও এসিড গলানো হতো। এটা থেকে মারাত্মক ও বিষাক্ত দুর্গন্ধ বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই চক্রটি বিভিন্ন যায়গায় অস্থায়ীভাবে এই অবৈধ ব্যাটারি ফ্যাক্টরি গড়ে তোলে। পরবর্তীতে এলাকার মানুষের তোপের মুখে পড়ে বারবার তারা স্থান পরিবর্তন করে বলে জানা গেছে।
এলাকা বাসি আরও জানিয়েছেন, বেশকিছু দিন ধরে রাত ১০ টার পরে বাতাসের সাথে মারাত্মক দুর্গন্ধ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্তোসপুর, ধোপাখালী, একতারপুর, উথলী, সেনেরহুদা, মৃগমারী, দেহাটিসহ আশেপাশের গ্রামের লোকজন এই দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। এই দুর্গন্ধের কারণে প্রথমদিকে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
চিকিৎসক জানিয়েছেন, এই দুর্গন্ধ স্বাস্থ্যের জন্য অনেকটা ক্ষতিকর। এটা মানুষের শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগবালাই সৃষ্টি করে। তাছাড়া অন্যান্য প্রাণীদের জন্য এটা ক্ষতিকর। এই ক্ষতিকারক সিসা বাতাসে ছড়িয়ে পড়লে উদ্ভিদ ও ফসলের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর।
উল্লেখ্য, বেশ কিছুদিন ধরেই রাত ১০টার পর থেকে উথলী ইউনিয়নসহ আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা বাতাসে বারুদ জাতীয় কোনোকিছুর পোড়া গন্ধ পাচ্ছিলেন। কারণ জানতে অনেকেই এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে আলোড়ন তৈরি হয়। সেখানে অভিযান পরিচালনা করায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী টিমের প্রতি।
নান প্রকাশ না করার শর্তে একতারপুর গ্রামের এক ব্যক্তি জানান, অবৈধভাবে গড়ে ওই কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ করলেই হবে না। এলাকার স্বার্থে এটা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

