বিজ্ঞাপন

‍“আজকের পর আর আসবো না” বলে ফোন কাটলেন ডিউটি ফাঁকি দেওয়া চিকিৎসক

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় কর্মস্থলে না থেকে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ডা. জয় প্রকাশ বিশ্বাস নেত্রকোনা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ডিউটি চলাকালীন তার প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোঘ, বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ডা. জয় প্রকাশ বিশ্বাস কলমাকান্দা ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও বিশ্বাস মেডিকেল হলে বসে রোগী দেখছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রতি রবিবার ও বুধবার নিয়মিতভাবে তিনি সরকারি ডিউটি ফাঁকি দিয়ে এখানে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। বুধবার সকালে রোগী দেখার এক পর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি করে চেম্বার ছেড়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে কলমাকান্দা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্বাধিকারী মো. বাবুল বিশ্বাস অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, নির্দিষ্ট দিনগুলোতে ওই চিকিৎসক তাদের সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখেন।

ঘটনার বিষয়ে কলমাকান্দা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ওবাইদুল হক পাঠান জানান, তিনি অভিযুক্ত চিকিৎসকের সাথে ফোনে কথা বলতে সক্ষম হন। ফোনে ডা. জয় প্রকাশ বিশ্বাস বুধবার সকাল থেকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উপস্থিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে এক পর্যায়ে, “আজকের পর থেকে আর আসবো না” মন্তব্য করে তিনি তড়িঘড়ি করে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাকে আর পাওয়া যায়নি এবং তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

কর্মস্থলে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তার বক্তব্যে সমন্বয়হীনতা লক্ষ্য করা গেছে।

এ বিষয়ে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, “সাংবাদিকদের মাধ্যমেই আমি বিষয়টি প্রথম জানতে পারলাম। তিনি সরাসরি আমার অধীনস্থ নন। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি বলবো।”

নেত্রকোনা সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান সমন্বয়কারী উত্তম কুমার ঘোষ জানান, ডা. জয় প্রকাশ বিশ্বাস কোনো ছুটিতে নেই। তিনি বুধবার সকালে কলেজে ক্লাসও নিয়েছেন। নির্ধারিত ডিউটির সময় শেষ না করে বাইরে যাওয়ার বা কর্মস্থল ত্যাগ করার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি স্পষ্ট জানান।

অন্যদিকে, নেত্রকোনা সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সাইফুল হাসান নোমান বলেন, “আজ বুধবার সকাল সাড়ে দশটার দিকে তাকে কলেজেই দেখেছি। তবে মৌখিকভাবে কিছু অভিযোগ এবং তথ্য-উপাত্ত পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের একাধিক এবং ক্ষেত্রবিশেষে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সরকারি চিকিৎসকের দায়িত্বকালীন সময়ে বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখা সম্পূর্ণ নীতিমালার পরিপন্থী। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

একইসঙ্গে স্থানীয়দের মত, একদিকে সরকারি দায়িত্ব পালনে চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, অন্যদিকে সাধারণ রোগীরা যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন- সেই দিকটিও সমান গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা উচিত। পুরো ঘটনায় কলমাকান্দা এলাকায় বর্তমানে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে- এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের।

পড়ুন- ১০ বছর পর তনু হত্যা মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার, হাফিজুর রহমান ৩ দিনের রিমান্ডে

দেখুন- মিষ্টিতে ক্ষতিকর হাইড্রোজ ব্যবহার, জরিমানা ২ লাখ টাকা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন