বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ‘হাজং’ ভাষা সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ভাষা ছড়িয়ে দিতে প্রাথমিকভাবে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার তিনটি বড় মন্দিরে শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে গণেশ্বরী নদীর ভাঙন রোধে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেখানে ঠিকাদারের বদলে কাজ করবেন খোদ স্থানীয়রাই।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের উত্তর লেংগুরা বেলতলী হাজংপাড়া দুর্গামন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব ঘোষণা দেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার বলেন, “সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে অনেক ভাষাই আজ হারিয়ে যাচ্ছে। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে হাজং ভাষাও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই ভাষা ছড়িয়ে দিতে সরকারিভাবে কাজ শুরু করা হয়েছে।” তিনি জানান, কলমাকান্দার রংছাতি, লেংগুরা ও খারনৈ ইউনিয়নের হাজং অধ্যুষিত এলাকায় তিনটি বড় মন্দিরে শিক্ষক বা শিক্ষিকা নিয়োগ দিয়ে শিশুদের মাতৃভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এর আগে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল গণেশ্বরী নদীর তীরবর্তী বেলতলী কালীমন্দির থেকে লেংগুরা বাজার পর্যন্ত ভাঙনপ্রবণ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদীভাঙন রোধে পুরো এলাকায় সিসি ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে কাজ শুরু করা হবে।
উন্নয়ন কাজের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে হাজং সম্প্রদায়ের মানুষদের দিয়েই ব্লক বসানোর কাজ করানো হবে, যাতে স্থানীয়দের দায়বদ্ধতা ও অংশগ্রহণ বাড়ে। এ কাজে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা ঠিকাদার সম্পৃক্ত থাকবে না।”
মতবিনিময় সভায় এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, “গারো, হাজং, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ বা খ্রিস্টান- এখানে কোনো ভেদাভেদ নেই। সবার আগে মানুষ- আমরা এই নীতিতেই কাজ করছি।”
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম।
এছাড়াও লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূইয়া, রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান খান পাঠান (বাবুল) সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং হাজং সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
অবহেলিত ভাষা সংরক্ষণ এবং দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা সমাধানে যুগপৎ এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই পরিকল্পনাগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

