সাশ্রয়ী মার্কিন বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইনসের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) থেকে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইরানে আগ্রাসন ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে জেট ফুয়েলের দাম হঠাৎ দ্বিগুণ বেড়ে যাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর সিবিসি নিউজের।
প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, ‘জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এবং ব্যবসায়িক চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় আমাদের আর্থিক অবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ধাপে ধাপে কার্যক্রম বন্ধ করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না।’
দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম এত বড় একটি মার্কিন এয়ারলাইন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেল। একসময় যুক্তরাষ্ট্রের মোট ফ্লাইটের প্রায় ৫ শতাংশ পরিচালনা করত স্পিরিট, যা কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ দিয়ে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হয়। এর ফলে জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪.৫১ ডলারে পৌঁছে যায়, যা স্পিরিটের পরিকল্পিত ব্যয়ের প্রায় দ্বিগুণ।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৫০ কোটি ডলারের একটি সহায়তা প্যাকেজ প্রস্তাব দিলেও তা ঋণদাতাদের সমর্থন পায়নি। ফলে শেষ মুহূর্তে কোম্পানিকে বাঁচানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এই বন্ধের ফলে হাজারো কর্মী চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, অন্যান্য বড় এয়ারলাইনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য ভাড়ায় ছাড় দেবে এবং স্পিরিটের কর্মীদের চাকরির সুযোগ দেয়ার উদ্যোগ নেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির এই ধাক্কা দুর্বল এয়ারলাইনগুলোর জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্ব বিমান পরিবহন খাত সামনে আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবারও যুদ্ধ শুরু হতে পারে : ইরানি কমান্ডার


