বাংলা ও বিশ্ব চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী আজ (২ মে)। যিনি বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছেন, সেই মহান নির্মাতার জন্মদিন ঘিরেও রয়েছে এক ব্যতিক্রমী অভ্যাসের গল্প।
জানা যায়, সত্যজিৎ রায় অধিকাংশ জন্মদিনেই নিজের কলকাতার বাড়িতে সময় কাটাতেন না। বরং শহরের একটি পাঁচতারা হোটেলে অবস্থান করতেন তিনি। এর পেছনে ছিল মূলত অনুরাগীদের অতিরিক্ত ভিড় ও জনসমাগমজনিত অসুবিধা।
জন্মদিনে তার কলকাতার বাসভবনের সামনে ভিড় জমাতেন শত শত ভক্ত। তাকে এক নজর দেখার জন্য অনুরাগীদের ভিড়ে এলাকায় তৈরি হতো তীব্র যানজট, ব্যাহত হতো স্বাভাবিক চলাচল। এসব পরিস্থিতি এড়াতেই তিনি ধীরে ধীরে হোটেলে জন্মদিন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন।
এছাড়া চিকিৎসকেরাও তাকে বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। জনসমক্ষে অতিরিক্ত চাপ এড়াতে এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তিনি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, জন্মদিনের আগের দিনই তিনি একটি হোটেলে গিয়ে অবস্থান নিতেন। সেখানেই দিনভর তিনি সময় কাটাতেন মূলত চিত্রনাট্য লেখা ও সৃজনশীল কাজে। জন্মদিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে তিনি আবার বাড়ি ফিরে আসতেন।
তবে একা থাকতেন না তিনি। এই সময় তার স্ত্রী বিজয়া রায় তার সঙ্গে হোটেলে থাকতেন। অন্যদিকে বাড়িতে আসা অতিথি ও অনুরাগীদের সঙ্গে দেখা করতেন তাদের ছেলে সন্দীপ রায়।
সৃজনশীল কাজের প্রতি গভীর মনোযোগ, ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখা এবং অনুরাগীদের ভিড় সামলানোর বাস্তবতা-সব মিলিয়ে জন্মদিনে হোটেলবাস ছিল সত্যজিৎ রায়ের এক ব্যতিক্রমী জীবনচর্চা। আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে এই গল্পটি সমানভাবে কৌতূহলের বিষয় হয়ে আছে।
পড়ুন : পাঁচ বছরের দাম্পত্যের ইতি টানছেন অভিনেত্রী ইভিলিন শর্মা


