আসন্ন কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে ২৬,২২৪ টি গবাদিপশুর খামার প্রস্তুত রয়েছে। গত কোরবানি ঈদে পশুর হাট ছিল ৩১টি। আসন্ন ঈদে পশুর হাট ২-৩টি বৃদ্ধি হতে পারে। সকল ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তুত আছে প্রাণিসম্পদ দপ্তর।
ইতোমধ্যে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কোরবানি পুশুর জন্য প্রস্তুতী নিতে শুরু করেছেন। জেলার বৃহত সিটি হাটসহ ৯টি উপজেলায় কোরবানি পশু হাটের জন্য প্রস্তুতী চলছে। আগামী ১৫ মে থেকে হাট গুলো পুরো দমে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর এর তথ্যমতে এবারের কোরবানি ঈদের জন্য ১লক্ষ ৪হাজার ৪১টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। মহিষ আছে ৩হাজার ৪২৫টি, ছাগল আছে ৩ লক্ষ ১১হাজার ৩৩৯টি এবং ভেড়া রয়েছে ৪৩ হাজার ৪শত ৬টি। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আতোয়ার রহমান বলেন, আসন্ন ঈদের জন্য সকল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোরবানি ঈদে ভ্যাটেনারী হাটে উপস্থিত থাকবে। অসুস্থ পশু চিহৃত করার জন্য তারা কাজ করবে। এবারের ঈদে পর্যাপ্ত গরু, ছাগল, ভোড়া ও মহিষ রয়েছে।
জেলার বৃহত পশুহাট হলো সিটি হাট। সেখানে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে পশু আসে এই হাটে। এছাড়া জেলার ৯টি উপজেলা ও পৌরসভার বিভিন্ন বাজারে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ কোরবানির জন্য হাট বসে।
সিটি হাটের একাধিক ক্রেতা ও বিক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদ উৎসব ছাড়াও এই হাটে তাদের কেনাবেচা চলমান থাকে। তবে ঈদ উপলক্ষে ব্যবসা ভালো হয়। ওই সময় তারা অভিযোগ করে বলেন, চোরাইভাবে ভারত থেকে গরুসহ বিভিন্ন গবাদিপশু সিটিসহ বিভিন্ন হাটে বিক্রয় হয়। সেক্ষেত্রে তাদের ব্যবসা ভালো হয় না। প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ততপর না হলে এই দেশের খামারিরা লোকশানে পড়বে।
ব্যবসায়ীরা আরো অভিযোগ তুলে বলেন, ঈদ মৌসুমে চুরী ও সিনতায় বৃদ্ধি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে হত্যার ঘটনাও ঘটে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা ভীতু সংকোচিত রয়েছে। কেননা গত ৫ আগষ্ট এর পর থেকে চুরী ও সিনতায়সহ বিভিন্ন অপরাধের প্রবণতা অনেক বৃদ্ধি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা অইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর চওড়া হয়ে যাচ্ছে। যখন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরা নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছে ওই সময় ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দেওয়াটা এখন বড় প্রশ্ন।
সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলাই অটল থাকবে পুলিশসহ বিভিন্ন আইন শঙ্খলা বাহিনী। কোন অন্যায়কে পশ্রয় দেবেনা পুলিশ। অপরাধ দমনে পুলিশ তার সবর্চ্চ দিয়ে দেশের সকল স্তরের মানুষের সম্পদ রক্ষা করবে। জেলার সকল থানা পুলিশ তার নিজ নিজ এলাকায় গুরুত্বের সাথে কর্তব্য পালন করার নির্দেশনা দেওয়া আছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল রহমান।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, কোরবানি ঈদ হচ্ছে মুসলিমদের জন্য সব চেয়ে বড় ধর্মীও উৎসব। এই ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ কোরবানি দেওয়ার জন্য পশু ক্রয় করার জন্য ব্যস্ত থাকেন। জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গবাদিপশু কেনার জন্য ব্যস্ত সময় পার করেন। কিন্ত ওই সময়ে কিছু অসাদু লোক চুরী ও সিনতায় নেশায় মেতে উঠে। তবে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী উভয় মিলে অপরাধীদের প্রতিহত করবে।
পড়ুন:ময়মনসিংহে হামে আক্রান্তে ১শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসাধীন ৮২মোট মৃত্যু ২৪
দেখুন:হাইডেলবার্গ: বাস্তবের চেয়েও সুন্দর?
ইমি/


