বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন গতির ঝড় নাহিদ রানা। আর তাকে ঘিরে প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার ওয়াসিম আকরাম। একজনের ক্যারিয়ার কেবল শুরুর পথে, অন্যজন ইতিহাসের অংশ—তবুও দু’জনকে একই সুতোয় গেঁথেছে গতি, দক্ষতা আর ক্রিকেটীয় বুদ্ধিমত্তা।
ওয়াসিম আকরাম, যিনি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক প্লাস ফার্স্টক্লাস ক্রিকেটে এক হাজারের বেশি উইকেট শিকার করে নিজেকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন অনেক আগেই, তিনি বরাবরই গতি ও সুইংয়ের জন্য ছিলেন ভয়ংকর। টেস্ট ও একদিনের আন্তর্জাতিক মিলিয়ে তার উইকেট সংখ্যা ৯০০-এরও বেশি, আর তার বলের ভেলকিতে বিশ্বসেরা ব্যাটাররাও হয়েছেন দিশেহারা। শুধু গতি নয়, পরিস্থিতি বুঝে বল করার অসাধারণ ক্ষমতাই তাকে করেছে অনন্য।
অন্যদিকে, তরুণ নাহিদ রানা এখনো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান পোক্ত করার লড়াইয়ে। তবে ইতোমধ্যেই তার গতির ঝলক নজর কেড়েছে ক্রিকেটবিশ্বের। প্রায় ১৪৫ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতির ধারাবাহিক বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিং সাজানোর ক্ষেত্রে তার সূক্ষ্ম পরিবর্তন ব্যাটারদের চাপে ফেলছে নিয়মিত। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী ব্যাটারদের বিপক্ষে তার পরিকল্পিত বোলিং প্রমাণ করছে, তিনি কেবল গতির জোরেই নয়—বুদ্ধিমত্তার দিক থেকেও এগিয়ে।
সাম্প্রতিক এক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিধ্বংসী ব্যাটার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে আউট করার পেছনে নাহিদের কৌশলী ফিল্ডিং সেটআপ ও পরিকল্পিত বল ছিল চোখে পড়ার মতো। বিষয়টি নজর এড়ায়নি ওয়াসিম আকরামেরও। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, শুধুমাত্র গতি থাকলেই বড় বোলার হওয়া যায় না—প্রয়োজন উপস্থিত বুদ্ধি, যা নাহিদের মধ্যে তিনি দেখতে পেয়েছেন।
নাহিদের ক্যারিয়ার এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে হলেও, তার পারফরম্যান্স ইতোমধ্যেই তাকে বিশেষ জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার অবদান দলকে এনে দিয়েছে সাফল্য। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চাপ সামলে দ্রুতগতির বোলিং করে প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করার ক্ষমতা তার অন্যতম শক্তি।
অন্যদিকে, ওয়াসিম আকরামের ক্যারিয়ার ছিল দীর্ঘ, সফল এবং ধারাবাহিকতার এক অনন্য উদাহরণ। বিশ্বকাপ জয়, অসংখ্য ম্যাচজয়ী পারফরম্যান্স এবং নেতৃত্বগুণ তাকে করেছে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা পেসার।
দুই প্রজন্মের এই দুই পেসারের মধ্যে পার্থক্য যেমন বিস্তর, তেমনি রয়েছে মিলও। দু’জনেরই মূল শক্তি গতি, তবে সেটিকে কার্যকর করতে দু’জনই নির্ভর করেছেন বুদ্ধিমত্তা ও পরিকল্পনার ওপর। ওয়াসিম আকরাম যেখানে নিজের ক্যারিয়ারে এই গুণাবলির চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটিয়েছেন, সেখানে নাহিদ রানা সেই পথেই এগিয়ে চলেছেন সম্ভাবনার আলো নিয়ে।
ক্রিকেটবিশ্ব এখন অপেক্ষায়—এই তরুণ পেসার কতদূর যেতে পারেন। যদি ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে ভবিষ্যতে হয়তো নাহিদ রানা নিজেও হয়ে উঠবেন এমন একজন কিংবদন্তি, যাকে দেখে পরবর্তী প্রজন্ম অনুপ্রেরণা খুঁজবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

