বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় এক ভুয়া এমবিবিএস চিকিৎসকের সন্ধান মিলেছে। দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ডিগ্রী ব্যবহার করে চিকিৎসা সেবা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে মাহামুদুল হাসান নামে ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা হাসপাতাল রোড সংলগ্ন ফিজিশিয়ান পয়েন্টে নামক চেম্বারে গেলে সাংবাদিকদের ওপর মব সৃষ্টি করে অভিযুক্ত ভুয়া চিকিৎসক ও তার সহযোগীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্বে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হলেও, তা উপেক্ষা করে আবারও রোগী দেখা শুরু করেন মাহামুদুল হাসান।
গত সোমবার (৪ মে) বিকেলে সাংবাদিকরা তার বক্তব্য নিতে গেলে ক্যামেরায় কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। পরে সাংবাদিকরা বের হওয়ার সময় স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক পরিচয়ধারী কয়েকজন এসে ঘটনাস্থলে মব সৃষ্টি করে সাংবাদিকদের হেনস্তার চেষ্টা করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে চিকিৎসা দানের গাইড লাইন না আসা পর্যন্ত চেম্বার বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডাঃ আ. স. ম. মো. মাহবুবুল আলম । পরবর্তীতে অভিযুক্ত চিকিৎসক আদালতের শরণাপন্ন হলে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক জবাব দেন সিভিল সার্জন।
তবে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এনফোর্সমেন্ট অভিযানে তার ব্যবহৃত ডিগ্রির সত্যতা নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতি পায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি যে এমবিবিএস (এম) ডিগ্রি ব্যবহার করছেন, সেটি অল্টারনেটিভ মেডিসিন সংক্রান্ত যার কোনো বৈধতা বাংলাদেশে নেই। এমনকি ভারতে এই ডিগ্রির স্বীকৃতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এ ধরনের ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসা দেওয়ার বিরুদ্ধে পূর্বে আদালতেও রিট খারিজ হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগেও হেলাল খান নামের এক ব্যক্তির করা মামলায় অভিযুক্ত ভুয়া চিকিৎসক মাহামুদুল হাসান ২১ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন।
বিষয়টি পুরোপুরি অনুধাবন না করেই আইনজীবীর পরামর্শে অভিযুক্ত চিকিৎসকের সেবা প্রদানের বিষয়ে জবাব প্রদান করেছেন বলে জানান সিভিল সার্জন। তিনি আরো জানান, চেম্বার খোলার ব্যাপারে তার নিকট থেকে কোনো লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়নি। ইতোমধ্যে একাধিক অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন সিভিল সার্জন।


