যশোর সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের মুনসেফপুর গ্রামে সুমনা খাতুন নামে এক গৃহবধূ হত্যার অভিযোগে নিহত সুমনার পিতা আদালতে হত্যা মামলা করেছেন।
মঙ্গলবার সদর উপজেলার দেয়াপাড়া গ্রামের মোমিন গাজী বাদী হয়ে নিহতের স্বামী জসিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেছেন। বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়েছে কিনা, তা ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন আকারে দাখিলের জন্য কোতয়ালী মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
আসামিরা হলেন সদর উপজেলার মুনসেফপুর গ্রামের তক্কেল মোল্যা, তার স্ত্রী তারা খাতুন এবং , তাদের দুই ছেলে জসিম মোল্যা ও নাজিম মোল্যা।
বাদী মামলায় উল্লেখ করেন, ২০১৭ সালে তার মেয়ে সুমনা খাতুন কে পারিবারিকভাবে আসামি জসিম মোল্যার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি সন্তানের জন্ম হয়। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই জসিম মোল্যা বেকার অবস্থায় ঘুরে বেড়াতেন। এর মধ্যে স্ত্রী সুমনার নামে এনজিও থেকে ৮ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন জসিম। তবে তিনি নিয়মিত এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করতেন না। গত ২৮ এপ্রিল এনজিও কর্মীরা কিস্তির টাকা নিতে এলে জসিম বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পরে সুমনা কে তার শ্বশুর, শাশুড়ি ও দেবর নাজিম মারধর করেন। সেদিন রাত ১০টার দিকে জসিম বাড়িতে ফিরে এসে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে আবারও সুমনাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মোটা কাপড়ের দড়ি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালাতে লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে নিহতের বাবার বাড়িতে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও অভিযোগ রয়েছে, সঠিকভাবে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি না করে বাদীর স্বাক্ষর নিয়ে দ্রুত দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। শোকে মুহ্যমান অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা লাশ দাফন করেন। পরবর্তীতে নিহতের ৭ বছর বয়সী ছেলে জাহিন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ঘটনা শুনে বাদী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

