সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দেখা পেতে গেলে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিষদের বারান্দায় অপেক্ষা করতে হয়। কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজারদিয়া ইউনিয়নে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মাসুদ নিজেই পৌঁছে যাচ্ছেন জনগণের দোরগোড়ায়। শুধু কার্যালয়ে বসে নয়, ইউনিয়নের বিভিন্ন চায়ের দোকান কিংবা মেঠো পথে বসেও তাকে নিয়মিত পরিষদের সিল ও নথিপত্র হাতে মানুষের সেবা দিতে দেখা যায়।
চেয়ারম্যান মাসুদ তার পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সিল সাথে রাখেন যাতে কোনো সাধারণ মানুষকে সামান্য একটি স্বাক্ষরের জন্য বারবার পরিষদে এসে ফিরে যেতে না হয়। অনেক সময় বয়স্ক বা অসুস্থ ব্যক্তিরা পরিষদে আসতে পারেন না, তাদের জন্য তিনি বাড়ির কাছের চায়ের দোকানে বা রাস্তার মোড়ে বসেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তাৎক্ষণিক সমাধান দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, চেয়ারম্যান এই সহজলভ্যতা আমাদের অনেক ভোগান্তি কমিয়ে দিয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে তাকে পাশেই পাওয়া যায়।
শুধু দাপ্তরিক সেবাই নয়, গত কয়েক বছরে গুজারদিয়া ইউনিয়নে রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত তদারকির মাধ্যমে তিনি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দিয়েছেন। বিশেষ করে অবহেলিত গ্রামীণ রাস্তাগুলো পাকাকরণের ফলে কৃষিপণ্য পরিবহন ও যাতায়াতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
সৈয়দ মাসুদের এমন কর্মতৎপরতায় গুজারদিয়া ইউনিয়ন জুড়ে বইছে প্রশংসার জোয়ার। সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে
স্বচ্ছতা নাগরিক সেবা প্রদানে কোনো প্রকার হয়রানি বা ঘুষের অভিযোগ নেই।
তার বিনয়ী ব্যবহার এবং সবসময় জনগণের সাথে মিশে থাকার গুণটি তাকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে গেছে।
দৃশ্যমান উন্নয়নের মাধ্যমে তিনি গুজারদিয়াকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়নে রূপান্তর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
চেয়ারম্যান সৈয়দ মাসুদ জানান, জনগণের ভোটে আমি নির্বাচিত হয়েছি তাদের সেবা করার জন্য। আমি শাসক নই, সেবক হিসেবে তাদের পাশে থাকতে চাই। তারা যেন ঘরে বসেই সেবা পায়, সেই লক্ষ্যেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।
করিমগঞ্জ উপজেলার এই নিবেদিতপ্রাণ জনপ্রতিনিধির এমন কর্মকাণ্ড অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।


