নেত্রকোনা দুর্গাপুরের পুকুরিয়ায় নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করে সংসার করা এক গৃহবধূ এখন পরিবারের করা মামলার কারণে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে নিজ স্বামীর বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার মামলা প্রত্যাহার ও হয়রানি বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সাদিয়া সুলতানা পুষ্প জানান, তিনি নিজ ইচ্ছায় ও সজ্ঞানে তার পছন্দের মানুষের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সুখের সংসার করছেন। বিয়ের পর থেকেই তার মা-বাবা ও স্বজনরা বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছেন। পুষ্প অভিযোগ করেন, তার বাবা-মা পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং পুলিশ দিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
তিনি আরও বলেন, “প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে করেছি। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমাকে অত্যন্ত স্নেহ ও যত্ন করেন। আমার বাবা-মা অপহরণের মিথ্যা অভিযোগে যে মামলা করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
বর্তমানে পুষ্প সন্তান সম্ভবা। এ অবস্থায় পরিবারের দায়ের করা মামলার কারণে তিনি এবং তার স্বামী চরম মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
পুষ্প কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি সাত মাস ধরে সংসার করছি, এখন মা হতে চলেছি। তবুও কেন আমার বাবা-মা আমাকে এবং আমার অনাগত সন্তানকে নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন? তারা বারবার বলছে আমার সন্তান নষ্ট করে আমাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে পুষ্প তার বাবা-মায়ের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমি আপনাদের সন্তান, বিয়ে করা আমার অপরাধ হতে পারে, এভাবে আমাদের জীবন ধ্বংস করার অধিকার আপনাদের নেই। আমি মিথ্যা মামলা ও হয়রানি থেকে মুক্তি চাই। আমি আমার স্বামীর সাথে শান্তিতে বসবাস করতে চাই।”
পরিশেষে, উপস্থিত সাংবাদিক ও প্রশাসনের কাছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ও আইনি জটিলতা নিরসনের অনুরোধ জানান ভুক্তভোগী গৃহবধূ।
সংবাদ সম্মেলনে ওই গৃহবধূর স্বামী মাহাদী হাসান, শ্বশুর হালিম খান, শ্বাশুরি মর্জিনা আক্তার, শ্বশুরবাড়ির লোকজনসহ গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : শেরপুরে ছাত্রলীগ নেতার মৃত্যু জামিনে মুক্তির ৭ দিন পর


