নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষকের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বন্দর থানাধীন বন্দর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ বদরুজ্জামান অবসর গ্রহণ করলে তৎকালীন গভর্নিং বডির সদস্যরা সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেন।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালে পুরোনো কমিটির মেয়াদ শেষ হলে নতুন কমিটি সহকারী অধ্যাপক (গণিত) মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেয়।
এদিকে ২০২৫ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়। সংশোধিত পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, “সহকারী অধ্যাপক/জ্যেষ্ঠ প্রভাষক (গ্রেড-৬) কর্মরত না থাকলে সহকারী প্রধান শিক্ষক (গ্রেড-৮) যোগ্যতা সম্পন্ন হলে তিনি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করবেন।”
এ পরিপত্রের আলোকে ইসমাইল হোসেন আবেদন করলে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়।
তবে মিজানুর রহমান দায়িত্ব ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে ইসমাইল হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন এবং নিজের পক্ষে রায় পান বলে জানা যায়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে ইসমাইল হোসেন তার সমর্থক শিক্ষকদের নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের চেষ্টা করেন।
এসময় মিজানুর রহমানের সমর্থক শিক্ষকরা বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, “২০২৩ সালে তৎকালীন কমিটি আমাকে এ পদে দায়িত্ব দেয়। আমি এখনো নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেয় পরিচালনা কমিটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কোনো বৈধ কমিটি নেই। বিষয়টি আমি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আবুল কালাম সাহেবকে জানিয়েছি। তার রাজনৈতিক সচিব আবুল কাউসার আশাও বিষয়টি অবগত আছেন। এমপি মহোদয় যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমি সেটাই মেনে নেব।”
পড়ুন : কালিকাপ্রসাদের মেলা মানেই জুয়ার আসর, কঠোর অবস্থানে উপজেলা প্রশাসন


