জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) পদার্থবিজ্ঞান অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন-এর নবগঠিত উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যকরী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো আয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, “অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন শুধু প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার শক্তিশালী সহযাত্রী।” তিনি উল্লেখ করেন, মানবসভ্যতার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির পেছনে পদার্থবিজ্ঞানের প্রত্যক্ষ অবদান রয়েছে। শব্দ, আলো, মহাকাশ গবেষণা, চাঁদে অভিযান থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই পদার্থবিজ্ঞানের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী নোবেলজয়ীদের মধ্যে পদার্থবিজ্ঞানীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এ বিষয়ের গুরুত্ব ও গভীরতাকেই তুলে ধরে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে।
প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান শিক্ষার্থীদের সামনে নিজেদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও সফলতার গল্প তুলে ধরতে হবে, যাতে তারা অনুপ্রাণিত হয়ে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অবদান রাখতে পারে। অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ড. মোঃ নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. পরিমল বালা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুরঞ্জন কুমার দাস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. মোঃ মুরাদ আহমেদ। পরে বিভিন্ন ব্যাচের অ্যালামনাই সদস্যরা তাঁদের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সংগঠনকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার লক্ষ্যে মতামত তুলে ধরেন।
আয়োজকরা জানান, এ আয়োজন প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণামুখী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পড়ুন- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী


