বিজ্ঞাপন

পটিয়ায় শতবর্ষী বলিখেলার ঐতিহ্য: ১১৭তম আসরে চ্যাম্পিয়ন মাসুম বলী

চট্টগ্রামের পটিয়ায় শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী আমজু মিয়ার বলিখেলার ১১৭তম আসর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার বিকেলে পৌরসভার পাইকপাড়া এলাকার ঐতিহাসিক পরীর দীঘির পাড়ে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অর্ধশতাধিক বলী অংশ নেন।

এ আয়োজনকে ঘিরে সকাল থেকেই এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। আশপাশের উপজেলা ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে হাজারো দর্শক এসে ভিড় করেন পরীর দীঘির পাড়ে। পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল মেলামুখর পরিবেশে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়ার সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। সভাপতিত্ব করেন আয়োজক কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। উদ্বোধন করেন আয়োজক কমিটির সচিব শাহজাহান চৌধুরী।

প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত কক্সবাজারের মহেশখালীর মাসুম বলী চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। রানারআপ হন বোয়ালখালীর কাঞ্চন বলী।

স্থানীয় ঐতিহ্য অনুযায়ী, পটিয়ার বলিখেলা একসময় এলাকার অন্যতম প্রধান বিনোদন ছিল। তুফান আলী মুন্সী, পরীর দীঘি বলিখেলা ও ভাটিখাইনের বারেক চেয়ারম্যানের বলিখেলার মতো বহু আয়োজন একসময় নিয়মিত বসত। সময়ের ব্যবধানে অনেকগুলো হারিয়ে গেলেও আমজু মিয়ার বলিখেলা এখনও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সত্তরের দশক থেকে আমজু মিয়া সওদাগরের পরিবার নিয়মিত এ আয়োজন করে আসছে। তবে এর সূচনা আরও আগে, পঞ্চাশের দশকে তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আমজু মিয়া সওদাগর নিজের উদ্যোগে এ বলিখেলার প্রচলন করেন। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে আবু মুছা সওদাগর দায়িত্ব নেন। বর্তমানে উত্তরসূরিরা এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।

ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, পটিয়ার পরীর দীঘির দক্ষিণ পাড়ে প্রথম বলিখেলার আয়োজন করেছিলেন প্রয়াত তোফায়েল আলী মুন্সী। পরে তাঁর ছেলে মনির আহমেদও এ আয়োজন অব্যাহত রাখেন। একসময় বৈশাখ মাসজুড়ে পটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বলিখেলার আসর বসত, যা ছিল স্থানীয়দের প্রধান বিনোদন।

গবেষকদের মতে, পটিয়া ও সাতকানিয়ার মল্ল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী মল্লক্রীড়ার ধারাবাহিকতা থেকেই বলিখেলার উৎপত্তি। পরবর্তীতে এটি পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলে জনপ্রিয় লোকজ সংস্কৃতিতে পরিণত হয়।

প্রবীণদের মতে, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় যুবকদের শারীরিক সক্ষমতা, সাহস ও ঐক্য গড়ে তুলতে বলিখেলার আয়োজন করা হতো। ধীরে ধীরে এটি চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ লোকঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

পড়ুন- আর কোন স্বৈরাচারী যেন জনগণের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবহার করতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন