মাতৃ দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হৃদয়বিদারক এক বার্তা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন বলিউড অভিনেত্রী সেলিনা জেটলি। ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, দাম্পত্য দ্বন্দ্ব এবং সন্তানদের থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার কষ্ট প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে তার সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও পাচ্ছেন না।
অভিনেত্রীর দাবি, তার স্বামী পিটার হাগ এবং শ্বশুর মিলে সন্তানদের তার বিরুদ্ধে প্রভাবিত করছেন। শুধু তাই নয়, সন্তানদের মনে মা ও তার ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আবেগঘন পোস্টে সেলিনা জানান, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তাকে সন্তানদের কাছ থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এমনকি যেসব সন্তানের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছিলেন, তারাও এখন আর তার কাছে নেই। বিষয়টি তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন এই অভিনেত্রী।
গত বছরের নভেম্বরে স্বামীর বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ এনে মামলা করেন সেলিনা। সেই মামলায় তিনি ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। এরই মধ্যে মুম্বাই পুলিশ পিটার হাগের বিরুদ্ধে একটি এফআইআরও দায়ের করেছে বলে জানা গেছে।
দাম্পত্য জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। তার ভাষ্য, বিবাহবার্ষিকীর দিনই তিনি বিচ্ছেদের আইনি নথি হাতে পেয়েছেন। বহু বছর ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেও শুধুমাত্র সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে।
নিজের জীবনের এক ভয়াবহ অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করে সেলিনা জানান, একসময় পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছিল যে ভোরবেলা প্রতিবেশীদের সহায়তায় গোপনে অস্ট্রিয়া ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। বর্তমানে নিজের সম্পত্তির অধিকার ফিরে পাওয়া এবং পরিবারের আরেক সদস্যকে মুক্ত করার জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
মাতৃ দিবসের পোস্টে প্রয়াত সন্তানের কথাও স্মরণ করেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, সন্তানের কবরের পাশে বসে কাঁদতে কাঁদতেই তিনি নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করছেন। একইসঙ্গে সন্তানদের ফিরে পাওয়া, নিজের মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং ন্যায়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
পড়ুন:ইতালিতে একই বাসায় বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ
দেখুন:আঙুর চাষে তরুণ উদ্যোক্তার চমক
ইমি/


