অভিনব পন্থায় অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে সাইবার আদালত চট্টগ্রামে।
আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে টাকা আত্মসাৎকারী একটি চক্রের বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়।
চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক কাজী মোঃ মিজানুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের এন্টি টেররিজম ইউনিটকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন। জানা যায়, গত ০৫ মে ২০২৬ তারিখে বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা সুলতান নাসির আলম (৪৭) এর মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত লিংক আসে। তিনি সরল বিশ্বাসে উক্ত লিংকে ক্লিক করলে ‘AYODATE’ নামক একটি স্পাইওয়্যার/ম্যালওয়্যার অ্যাপ তার ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইনস্টল হয়ে যায়। এর মাধ্যমে হ্যাকার চক্র তার ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় । পরবর্তীতে বাদীর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (চকবাজার শাখা) এর হিসাব হতে দফায় দফায় ২,৮৬,০৫০/- টাকা এবং তার বিকাশ একাউন্ট হতে লোন গ্রহণসহ মোট ৬২,৬০০/- টাকা ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়। সর্বমোট ৩,৪৮,৬৫০/- টাকা মোঃ রকিবুল খাঁ নামক এক ব্যক্তির পূবালী ব্যাংক হিসাবসহ কয়েকটি বিকাশ নাম্বারে স্থানান্তর করা হয় ।
ভুক্তভোগী বাদী সুলতান নাসির আলম বাদি হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর ১৭,১৮ ও ১৯ ধারায় চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই নালিশী মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা হ্যাকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতারক চক্রকে আসামি করা হয়েছে।
বাদীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রখ্যাত মানবাধিকার আইনবিদ বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন -বিএইচআরএফ এর মহাসচিব এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, মানবাধিকার এডভোকেট কে এম শান্তনু চৌধুরী ও এডভোকেট জিয়া উদ্দিন আরমান ।শুনানি শেষে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক কাজী মোঃ মিজানুর রহমান অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে পুলিশের বিশেষায়িত শাখা কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে তদন্তভার প্রদানের নির্দেশ দেন। বিজ্ঞ এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান জানান, যেকোনো অপরিচিত লিংকে ক্লিক করা বা অপরিচিত অ্যাপ ইনস্টল করার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা জরুরী।
পড়ুন : শিক্ষার্থীর ওপর হামলার পর গুলিয়াখালী সৈকতে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ


