গ্রীষ্মের দুপুরে বাজারজুড়ে এখন লাল রঙের উৎসব। বাঁশের ঝুড়ি আর ডালাভর্তি টসটসে লিচু দূর থেকেই ক্রেতাদের ডাকছে। রোদের তাপে হাঁসফাঁস করা মানুষ একটু মিষ্টি স্বাদের আশায় ভিড় করছেন ফলের দোকানে। কিন্তু বাহারি রঙে সাজানো এসব লিচুর বেশির ভাগেই নেই মৌসুমের সেই চেনা রস আর মাধুর্য। আগাম বাজারে ওঠা অপরিপক্ব লিচু কিনে অনেকেই পড়ছেন বিড়ম্বনায়।
পৌর শহরের সড়ক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি শ’ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। দাম চড়া হলেও ক্রেতাদের আগ্রহ কম নয়। তবে অনেকের অভিযোগ, দেখতে আকর্ষণীয় হলেও স্বাদে টক, ভেতরে রস কম, আর অনেক লিচুই পুরোপুরি পরিপক্ব নয়।
আফজাল মিয়া নামের এক ক্রেতা বলেন, গরমে পরিবারের শিশুদের জন্য শখ করে লিচু কিনছেন। কিন্তু বাড়িতে নিয়ে খাওয়ার পর হতাশ হতে হচ্ছে। বাইরে লাল হলেও ভেতরে কাঙ্ক্ষিত মিষ্টতা নেই।
পৌর শহরের সড়ক বাজারের ফল বিক্রেতা ইদ্রিস মিয়া বলেন, “এখনো আসল মৌসুম শুরু হয় নাই। যেগুলো বাজারে আসতেছে, বেশির ভাগই আগাম তোলা। দাম বেশি, কিন্তু স্বাদ কম। তারপরও মানুষ নতুন ফল দেখে কিনতেছে।”
চিকিৎসকেরাও আগাম ও অপরিপক্ব লিচু খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হিমেল খান বলেন, “অপরিপক্ব ও কেমিক্যাল ব্যবহার করা লিচু স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে পেটের সমস্যা, বমি বা অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকে। তাই মৌসুম না হওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।”
কৃষি বিভাগ বলছে, এখনো পুরোপুরি লিচুর মৌসুম শুরু হয়নি। প্রকৃত সময়ের আগেই বেশি লাভের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও কিছু চাষি অপরিপক্ব লিচু বাজারে তুলছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, “এখনো পুরোপুরি লিচুর মৌসুম শুরু হয়নি। মৌসুম শুরু হতে কমপক্ষে আরও দশ দিন লাগবে। বেশি দামের আশায় কিছু চাষি আগাম লিচু তুলছেন। এসব লিচু খুবই টক হয় এবং স্বাভাবিক স্বাদ পাওয়া যায় না।”
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত মৌসুমে গাছে থাকা লিচু স্বাভাবিকভাবেই রসালো ও মিষ্টি হয়। সময়ের আগে সংগ্রহ করলে ফলের গুণগত মান নষ্ট হয়। এতে একদিকে যেমন ক্রেতারা প্রতারিত হন, অন্যদিকে বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
গ্রীষ্মের ফলের রাজ্যে লিচু যেন এক আবেগের নাম। ছোটবেলার বিকেলে ঠান্ডা পানিতে ভেজানো লিচুর ঝাঁপি খুলে যে আনন্দ মিলত, আগাম বাজারের এসব অপরিপক্ব ফলে সেই স্বাদ যেন হারিয়ে যাচ্ছে। লাল খোসার আড়ালে তাই এখন জমছে এক ধরনের নীরব
হতাশা।
আরও কয়েকটি দিনের অপেক্ষা হয়তো ফিরিয়ে আনবে গাছপাকা সেই রসালো মাধুর্য। তখন বাজারজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে প্রকৃত মৌসুমের লিচুর ঘ্রাণ, আর ক্রেতারাও খুঁজে পাবেন কাঙ্ক্ষিত স্বাদ। কৃষি বিভাগ বলছে, প্রকৃত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করলে যেমন ভালো মানের ফল পাওয়া যাবে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমবে। তাই কৃত্রিম তাড়াহুড়োর এই বাজারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পড়ুন- সিরাজগঞ্জে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা, হাসপাতালে আইসিইউ ও চিকিৎসক সংকট


