গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের দলিল লেখকদের কাছে চাঁদা দাবি, হুমকি ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আব্দুর রউফসহ ১০/১২ জনের নামে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো মোস্তাফিজুর রহমান মল্লিক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মো আব্দুর রউফসহ ১০/১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখকদের নিকট চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত ৯ মে সন্ধ্যায় গাইবান্ধা পুরাতন জেলখানার মোড়ে মোস্তাফিজুর রহমানের পথরোধ করে প্রতি দলিল বা সাপ্তাহিক ভিত্তিতে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে দেখে নেওয়া ও দলিল লেখকদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার হুমকি দেওয়া হয়।
পরে ওই রাতেই বিষয়টি নিয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক স্টোরিতে লেখালেখি করেন। পরদিন ১০ মে দুপুরে গাইবান্ধা সদর সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অভিযুক্তরা মানববন্ধনের নামে জড়ো হয়ে দলিল লেখক ও অভিযোগকারীকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ এবং মব সৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। এতে কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দলিল লেখকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই দিন রাতে সদর থানায় মোস্তাফিজুর রহমান মল্লিক বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কার্যালয়ের গেট খুলে দিলে অভিযুক্তরা দলবদ্ধ হয়ে অফিসের মূল ফটকে লাথি মারে, হত্যার হুমকি দেয় এবং মোস্তাফিজুর রহমানকে টানাহেঁচড়া করে লাঞ্ছিত করে। পরে উপস্থিত দলিল লেখক ও সংবাদকর্মীদের সহায়তায় তিনি উদ্ধার হন। খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
এছাড়াও ১২ মে মঙ্গলবার পুনরায় অফিসের সামনে অবস্থান নিয়ে সম্পদ বিনষ্ট ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন দলিল লেখক সমিতির সদস্যরা। একইদিন ১২ মে মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা সদর সাবরেজিস্ট্রার অফিস প্রাঙ্গণে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে কলম বিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন দলিল লেখকরা।
বিক্ষোভে বক্তব্য দেন, দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মল্লীক,দলিল লেখক জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল, আজিম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম মিথেনসহ অন্যরা।
এসময় তারা অভিযোগে করে বলেন, একদল বহিরাগত চিহ্নিত মব সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ অফিসে এসে দলিল লেখকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা দাবি করছে। এতে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত তাদের কলম বিরতি কর্মসূচি চলবে। পরে তারা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস চত্বরে বিক্ষোভ করেন।
দলিল লেখক সমিতির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল বলেন, ‘আনরা দীর্ঘদিন ধরে দলিল লিখে আসছি। সম্প্রতি একটি কুচক্রী মহল চাঁদার দাবিতে আমাদের কাছে আসে। তারা প্রত্যেকেই শহরের চিহ্নিত মাদকসেবী। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
দলিল লেখক সমিতির সদস্য সিরাজুল ইসলাম মিথেন বলেন, ‘আমরা কষ্ট করে আয় করি। আমাদের পরিশ্রমের টাকা কোন চাঁদাবাজকে দিতে চাইনা। আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কলম বিরতি করেছে সদর উপজেলা দলিল লেখক সমিতি।’
সদর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মল্লিক গণমাধ্যমকে বলেন, ” শহরের কিছু চিহ্নিত চাঁদাবাজ বেশ কিছুদিন ধরে দলিল প্রতি ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে আসছে। গরীব দলিল লেখকদের কষ্টে উপার্জিত টাকা আমরা কেন চাঁদাবাজদের দেব।
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে সদর থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অতি দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে কলম বিরতি অব্যাহত থাকবে। অন্যথায় দেশব্যাপী বৃহত্তর পরিসরে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
এ বিষয়ে গাইবান্ধার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( অর্থ ও প্রশাসন) শরীফ আল রাজিব বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


