বিজ্ঞাপন

ইরানের সামরিক বিমানগুলোকে আশ্রয় দিয়েছে পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে এবং মার্কিন হামলা থেকে বাঁচাতে ইরানের সামরিক উড়োজাহাজকে নিজেদের বিমানঘাঁটিতে রাখার সুযোগ দিয়েছে পাকিস্তান। এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।

তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি ফেরাতে মধ্যস্থতার ভূমিকায় থাকা পাকিস্তান সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির সরকার বলছে, প্রতিবেদনটি বিভ্রান্তিকর এবং চাঞ্চল্য তৈরির উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে।

সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে পাকিস্তান একদিকে ওয়াশিংটনের কাছে নিজেকে স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে তেহরান ও বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কও নষ্ট করতে চাইছে না। চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে অবহিত কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির কয়েক দিন পর ইরান একাধিক উড়োজাহাজ পাকিস্তানের নূর খান বিমানঘাঁটিতে পাঠায়। রাওয়ালপিন্ডির কাছে অবস্থিত এই ঘাঁটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব উড়োজাহাজের মধ্যে ইরানি বিমানবাহিনীর একটি আরসি-১৩০ উড়োজাহাজ ছিল, যা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।

সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ইরান কিছু বেসামরিক উড়োজাহাজ আফগানিস্তানেও পাঠিয়েছিল। তবে সেগুলোর মধ্যে কোনো সামরিক উড়োজাহাজ ছিল কি না, তা স্পষ্ট নয় বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সিবিএসের ভাষ্য, এসব পদক্ষেপ ইরানের অবশিষ্ট সামরিক ও বিমান চলাচল-সম্পর্কিত সম্পদকে সম্ভাব্য হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার প্রচেষ্টা হতে পারে। তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানি উড়োজাহাজ পাকিস্তানে এসেছে এ তথ্য সত্য হলেও এর সঙ্গে কোনো সামরিক প্রস্তুতি বা সুরক্ষা ব্যবস্থার সম্পর্ক নেই। ইসলামাবাদ জানায়, যুদ্ধবিরতির সময় এবং ইসলামাবাদে আলোচনার প্রাথমিক পর্যায়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষেরই কিছু উড়োজাহাজ পাকিস্তানে এসেছিল। এগুলো কূটনৈতিক প্রতিনিধি, নিরাপত্তা দল ও প্রশাসনিক কর্মীদের চলাচলের সুবিধার্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

পাকিস্তান আরও জানিয়েছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনা নতুন করে শুরু না হলেও উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত আছে। দেশটির দাবি, তারা সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের স্বার্থে নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল সহায়ক ভূমিকা পালন করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে স্বচ্ছ যোগাযোগ বজায় রেখেছে।

সিবিএস নিউজকে পাকিস্তানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নূর খান ঘাঁটিতে ইরানি সামরিক উড়োজাহাজ রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর যুক্তি, ঘাঁটিটি জনবহুল এলাকার কাছে হওয়ায় সেখানে বড়সংখ্যক উড়োজাহাজ গোপনে রাখা সম্ভব নয়।

এদিকে আফগানিস্তানের এক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তা সিবিএসকে বলেন, সংঘাত শুরুর আগে ইরানের মাহান এয়ারের একটি বেসামরিক উড়োজাহাজ কাবুলে অবতরণ করেছিল।

পরে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেটি হেরাত বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ আফগানিস্তানে ইরানি উড়োজাহাজ থাকার দাবি অস্বীকার করেছেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ঘিরেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সিবিএসের দাবি, ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে যুদ্ধ-ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো শর্ত ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

সামগ্রিকভাবে সিবিএসের প্রতিবেদন পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তবে ইসলামাবাদ বলছে, তাদের ভূমিকা শান্তি ও সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার জন্য, কোনো পক্ষকে সামরিক সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়।

সূত্র: সিবিএস

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : স্টারমারের পদত্যাগ চাইলেন ৭০ এমপি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন