পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে ৬ লাখ পশু প্রস্তুতি হয়েছে। জেলার প্রায় ১৭ হাজার খামারে দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ লাখ ষাঁড়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এসব পশুর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।
ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জেলার গ্রামাঞ্চলের খামারগুলোতে এখন ব্যস্ততার চিত্র। অধিক লাভের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন খামারিরা। ধানের খড়, সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাইয়ে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। শুধু সিরাজগঞ্জের চাহিদা পূরণ নয়, প্রতিবছরের মতো এবারও এখানকার পশু দেশের বিভিন্ন জেলার হাটে সরবরাহ করা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা খামারগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন।
বুধবার (১৩ মে) সকালে সিরাজগঞ্জ প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ সালে শাহজাদপুরে মিল্কভিটার দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সিরাজগঞ্জে গবাদিপশুর খামার গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে এ খাত এখন জেলার অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। এ বছর দেশীয় জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান, নেপালি ঘির, রাজস্থানি ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গবাদিপশুও লালন-পালন করা হচ্ছে।
তবে খামারিদের বড় দুশ্চিন্তার নাম উৎপাদন ব্যয়। চলতি বছরে গো-খাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। বর্তমানে সরিষার খৈল প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, গমের ভুসি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ডাবরি ভুসি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং কাঁচা ঘাসের আটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। ফলে গরু পালন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
শাহজাদপুর উপজেলার “ভাই ভাই ডেইরি ফার্ম”-এর পরিচালক শাহান উদ্দিন জানান, ছয় মাস আগে ৩৪টি গরু কিনে মোটাতাজা শুরু করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গরুগুলোর পরিচর্যা করছেন। খাদ্যের দাম বাড়লেও ভালো বাজারমূল্যের আশা করছেন তিনি।
সদর উপজেলার ছোঁয়া মনি এ্যাগ্রো ফার্ম-এর স্বত্বাধিকারী হাজি আব্দুস সাত্তার জানান, তার খামারে ৬৫টি গরু দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। গরুর স্বাস্থ্য ও হজমশক্তি বৃদ্ধিতে বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্য ব্যবহার করা হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ খান এগ্রোর পরিচালক নির্ঝর খান বলেন, প্রতি বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে প্রতি বস্তায় তিন থেকে চারশো টাকা। ফলে ষাড় মোটাতাজাকরণের ব্যয় বেড়েছে খামারিদের। এ বছরে উচ্চমুল্যের গো-খাদ্য খাইয়ে মোটাতাজা করা ষাড় সঠিকমুল্যে বিক্রি করতে পারলে লাভের আশা করছেন তারা। কিন্তু কোরবানির পশুর হাটে যদি ভারতীয় গরু অবাধে বিক্রির সুযোগ দেয়া হয় তাহলে দেশীয় কোরবানির পশুর নায্য দাম না পাওয়ার আশংকা করছেন প্রান্তিক খামারিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, চলতি বছরে সিরাজগঞ্জে প্রায় ৬ লাখ ১৭ হাজার পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা হতে পারে। ঈদকে ঘিরে এখন জেলার গ্রামজুড়ে উৎসবের আমেজ। খামারিদের প্রত্যাশা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে এই খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখবে।


