রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে ১৯ কাঠার বাড়ি দখল চেষ্টা ও ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবির ঘটনায় মূলহোতা আজিজুর রহমান ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকার নিজ বাসায় গুলশান থানা পুলিশ এই অভিযান চালায়।
গ্রেপ্তার আজিজুর রহমান ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ থানার গালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। পাশাপাশি তিনি ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতি।
পুলিশ বলছে, আজিজুর রহমান ভূঁইয়া নবাবগঞ্জের জনপ্রতিনিধি হলেও গুলশান ও ভাটারা এলাকায় তিনি ও তার পরিবারের লোকজন জমি ব্যবসা ও ডেভলপার ব্যবসায় জড়িত। বিভিন্ন জমি ও বাড়ি দখল ও দখল চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে এই আজিজুর হমান ভূঁইয়া ওরফে আজিজ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। গুলশানে বাড়ি দখল চেষ্টার মূলহোতা ‘আজিজ চেয়ারম্যান’ গ্রেপ্তার বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের পুনর্বাসনে ‘শিশু স্বর্গ’ চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, নেপথ্যে থেকে গুলশান ১ নম্বর এলাকার ১২৭ নম্বর রোডের ১৯ কাঠার বাড়ি দখলের চেষ্টা করেছিলেন। তা করতে না পেরে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই ঘটনায় দায়ের মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে এই আজিজুরের নাম। গুলশানে বাড়ি দখল চেষ্টার মূলহোতা ‘আজিজ চেয়ারম্যান’ গ্রেপ্তার।
জানা গেছে, গত ১৯ মার্চ রোজার ঈদের ছুটিতে ফাঁকা ঢাকায় গুলশান ১ নম্বর এলাকার ১২৭ নম্বর রোডের ১৯ কাটা ১৩ ছটাক আয়তনের ১৫ নম্বর বাড়িটি আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার লোকজন দখলে নেয়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দখলদাররা পিছু হটে। তবে এর আগেও ওই বাড়িটি দখলের চেষ্টা করে আজিজুরের লোকজন। তা না পেরে বাড়ি মালিকের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকার চাঁদা দাবি করেছিল।
গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, বাড়ি দখল চেষ্টা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় দায়ের মামলায় এর আগেও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য এবং তদন্তে নিশ্চিত হয়ে বুধবার বিকেলে ঘটনার নেপথ্য আসামি আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গুলশানের ওই বাড়িটির নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৩ সালের শেষের দিকে আব্দুল আজিজ খান নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে পুরাতন ভবনসহ গুলশানের বাড়িটি কেনে মেসার্স মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস। ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাবাসসুম আরেফিন রহমান; তার ডাক নাম মুন। ভবনটিতে ব্যবসায়িক কাজের পাশাপাশি তার বোনসহ অন্য স্বজনরা বসবাস করে আসছিলেন।
বাড়িটির বিক্রেতা আব্দুল আজিজ খানের বাড়ি ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জে। তিনি ২০১৫ মারা গেছেন। তবে একই এলাকার চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূঁইয়া নিজেকে বাড়িটির আম মোক্তার দাবি করে সেটি দখলের চেষ্টা করেন। তা না পেরে নিজের লোক হানিফ হাওলাদারকে বাড়িটির ভুয়া মালিক সাজিয়ে জাল কাগজ তৈরি করেছিলেন।
বাড়ি দখল চেষ্টা ও চাঁদা দাবির ঘটনায় দায়ের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মাহবুবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি ও বাড়ি দখল চেষ্টার নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি নবাবগঞ্জের চেয়ারম্যান হলেও রাজধানীর গুলশান ও ভাটারা এলাকায় প্রভাব রয়েছে। তা ছাড়া তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর গুলশান এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন। পালিয়ে থেকেও নানা অপকর্ম করে আসছিলেন।
তিনি বলেন, মামলার অভিযোগ ছাড়াও গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুর রহমান ভূঁইয়া গুলশান এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির জন্য অর্থ প্রদান ছাড়াও নানা অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নবাবগঞ্জের গালিমপুরেও চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্যরা তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের কারণে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবও দিয়েছিল। তার পরিবার আওয়ামী লীগ ছাড়াও বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
পড়ুন:জামালপুরকে ব্যতিক্রমী জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চান নিলোফার চৌধুরী মনি
দেখুন:অক্টোপাস ‘পল’ থেকে জাদুকরদের ভবিষ্যদ্বাণী-বিশ্বকাপের সবচেয়ে পাগলাটে গল্প |
ইমি/


