দৌলতপুর থানা এলাকায় এক সাংবাদিককে থানায় ডেকে নিয়ে দীর্ঘ সময় আটক রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌফিক আজমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।
ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আলম জানান,ওসি তৌফিক আজমের খুটির জোর কোথায় তাদের জানা নেই। তিনি আরো বলেন, তৌফিক আজমের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালে তিনি পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করেছেন,তার বিরুদ্ধে জমি দখলের ঘটনার আদালতে সিআর মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক নারী, তার পর ও ওসি তৌফিক কিভাবে স্বপদে বহাল থাকে এই বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ পত্রে জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেন, দৌলতপুর উপজেলার চকমিরপুর ইউনিয়নের মান্দারতা গ্রামের ইউছুপ শেখ হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তথ্য জানতে ফোন করলে ওসি তৌফিক আজম তাকে থানায় যেতে বলেন। পরে তিনি নিহতের ছেলে হাবিবকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গেলে সেখানে তাকে আক্রমণাত্মক আচরণ, গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের শিকার হতে হয় বলে দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, থানায় নিয়ে তাকে প্রায় সাত ঘণ্টা আটকে রাখা হয় এবং সাংবাদিক পরিচয়ধারী পোল্ট্রি ব্যবসায়ী শাহ আলম ও ড্রেজার ব্যবসায়ী পরিচয়ধারী আমিনুরের সহযোগিতায় তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ জন্য বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাদী ও সাক্ষী বানানোর চেষ্টা চালানো হলেও তারা রাজি না হওয়ায় পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, থানায় থাকা অবস্থায় তার দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় এবং একটি ফোন ভাঙচুর করা হয়। এমনকি তাকে পানি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। পরে একটি সাদা কাগজে ওসিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
জাহাঙ্গীর আলম আরও দাবি করেন, তার স্বজনদের কাছ থেকে ওসির নাম ব্যবহার করে একটি দালালচক্র ১৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিভিন্ন স্থানীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, দৌলতপুর থানার ওসি তৌফিক আজম এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেফতারের ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তার ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলার সাহস করে না। তার সাথে তর্ক বির্তক করতে গেলে তিনি অসহায় মানুষের নামে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি করেন। তারা এই ওসি তৌফিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে শাস্তির দাবি জানান।
পড়ুন : নিকুঞ্জে ‘লাল বাহিনী’র ত্রাস নূর হোসেন লাল গ্রেপ্তার


