মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মাত্র ১২০ টাকায় বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি পেয়েছেন মেহেরপুরের ১২ জন তরুণ-তরুণী। কোনো ধরনের সুপারিশ, তদবির বা অনিয়ম ছাড়াই শতভাগ স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে তারা ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে প্রাথমিকভাবে মনোনীত হয়েছেন। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও একজন নারী প্রার্থী রয়েছেন। সরকারি ফি বাবদ মাত্র ১২০ টাকা খরচ করেই তারা চাকরির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
রোববার (১৭ মে) রাত ৮টার দিকে মেহেরপুর পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ও মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায়। এর আগে সকাল ১০টায় লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হলে ১৮১ জন তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণ করেন। লিখিত পরীক্ষায় মোট ৩৮ জন উত্তীর্ণ হন। পরে তারা মনস্তাত্ত্বিক ও মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষায় অংশ নেন। সব ধাপ শেষে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ১১ জন পুরুষ ও একজন নারী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।
চাকরি পাওয়া তরুণ-তরুণীরা বলেন, কোনো প্রকার দালাল বা তদবির ছাড়াই নিজেদের মেধা ও যোগ্যতায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্য হতে পেরে তারা গর্বিত ও আনন্দিত।
অভিভাবকরাও এ নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য এ ধরনের স্বচ্ছ নিয়োগ আশাব্যঞ্জক।
পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর আগেই জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয় ডিশ চ্যানেল, সংবাদপত্র, মাইকিং ও ফেসবুক পেজের মাধ্যমে চাকরিপ্রত্যাশীদের দালাল ও প্রতারক চক্র সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছিল। কঠোর তদারকি ও সতর্কতার কারণেই কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়াই সাধারণ পরিবারের মেধাবী ছেলে-মেয়েরা মাত্র ১২০ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েছেন।
ফলাফল ঘোষণাকালে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম এবং কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।


