বিজ্ঞাপন

নাগরিক টিভিতে সংবাদ প্রকাশ,৩ বছর পর আলোয় ফিরলো পরিষদ

দীর্ঘ তিন বছর ধরে অন্ধকারে ডুবে থাকা কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে অবশেষে ফিরেছে আলো। জ্বলছে বৈদ্যুতিক বাতি, ঘুরছে ফ্যান, সচল হয়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রম।নাগরিক টিভি সহ অনান্য গণ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করার পর বহুদিনের ভোগান্তির অবসান হলো বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।

‎একসময় যেখানে তালাবদ্ধ কক্ষ, অন্ধকার অফিস আর স্থবির সেবার চিত্র ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা, আজ সেখানে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন জরুরি তথ্য সেবা নিতে এসে আর হয়রানির শিকার হতে হবে না বলে জানান ইউপি চেয়্যারম্যান বাবলু মিয়া।

‎জানা গেছে, দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ না করায় ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রম। অনেক সময় পরিষদ ভবনে ঝুলতো তালা, আবার কখনও চায়ের দোকান কিংবা হাটে বসেই চলতো দাপ্তরিক কাজ। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সেবা প্রত্যাশীরা।

‎স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, বছরের পর বছর বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ বিদ্যুৎ বিলের অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তা সময়মতো পরিশোধ হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিক টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।

‎এরপর উলিপুর উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নির্দেশনার পর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বাবলু মিয়া প্রায় ৭৬ হাজার টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল দুই কিস্তিতে পরিশোধের ব্যবস্থা করেন।ফলে বিদ্যুৎ বিভাগ পুনরায় সংযোগ চালু করা হয় তিন বছর পর আলোকিত হয় বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ।

‎বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর বদলে গেছে পরিষদের পরিবেশ। এখন নিয়মিত অফিস খোলা থাকছে, কম্পিউটার সচল রয়েছে, দ্রুত মিলছে নাগরিক সেবা। পরিষদে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, আগে এখানে এসে মনে হতো এটি যেন পরিত্যক্ত কোনো ভবন। এখন অন্তত স্বাভাবিক পরিবেশে বসে কাজ করা যাচ্ছে।

‎স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি ইউনিয়ন পরিষদ শুধু প্রশাসনিক ভবন নয়, এটি গ্রামের মানুষের আস্থা ও ভরসার কেন্দ্র। সেই প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন অন্ধকারে ডুবে থাকা ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে অবশেষে আলো ফিরে আসায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে জনমনে।

‎এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ বাবলু মিয়া বলেন,বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে পরিষদের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে।

‎তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না হলে কি এখনও অন্ধকারেই পড়ে থাকতো বেগমগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ? এখন দেখার বিষয়, ফিরে আসা এই আলো কতটা স্থায়ী হয় এবং জনসেবার মান কতটা উন্নত হয়।

বিজ্ঞাপন

‎পড়ুন : প্রতিবেদনের প্রভাব: কলমাকান্দায় ওজন জালিয়াতির পর বদলে দেওয়া হলো ৮০টি ছাগল

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন