বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় ঠিকাদারের গাফিলতিতে ঝরল শিশুর প্রাণ

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ফকির চান্দুয়াইল এলাকায় ঠিকাদারের চরম গাফিলতি ও অবহেলার কারণে প্রাণ হারিয়েছে ইউসুফ (৮) নামে এক শিশু। অবহেলা ও অনিরাপদভাবে ভারী নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

নিহত ইউসুফ ফকির চান্দুয়াইল গ্রামের আব্দুল সাত্তারের কনিষ্ঠ পুত্র। সে স্থানীয় ফকির চান্দুয়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের ঠিক পূর্বে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। শিশুর এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বেতুয়া-ফকির চান্দুয়াইল সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। কাজের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ওই স্থানে অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করেছিলেন। কিছুদিন আগে ঘরের অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নেওয়া হলেও, রাস্তার কাজে ব্যবহারের জন্য আনা প্রায় পাঁচ-ছয় ফুট উচ্চতার কয়েকটি ভারী সিমেন্টের পিলার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে একটি খুঁটির সঙ্গে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। কোনো প্রকার নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই জনাকীর্ণ এলাকায় এভাবে পিলারগুলো রাখা হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশু ইউসুফ ওই ঘটনাস্থলের পাশে খেলাধুলা করছিল। এ সময় হঠাৎ একটি ভারী সিমেন্টের পিলার তার ওপর উল্টে পড়ে। পিলারের নিচে চাপা পড়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পায় ইউসুফ। রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করতে দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। ততক্ষণে সব শেষ। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলমাকান্দা সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সামসাদ সারোয়ার সামিন জানান, “হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শিশু ইউসুফের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”

এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল হাশেম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদারের নিযুক্ত প্রতিনিধি মানিক সাহার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই তারা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

এদিকে, এ মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঠিকাদারের খামখেয়ালি, অবহেলা এবং নিরাপত্তাহীনভাবে জনবহুল রাস্তার পাশে নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণেই আজ একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ ঝরে গেল। এটি স্রেফ দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে দোষী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ছাগল বিতরণে দুর্নীতি: নেত্রকোনায় বরখাস্তসহ জেলাজুড়ে ১১ জনের গণ-বদলি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন