জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোটরসাইকেল মালিকদের কাছ থেকে এআইটি বা অগ্রিম আয়কর আদায়ের পরিকল্পনা করছে। সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন মোটরসাইকেল চালকরা।
তারা বলছেন, তারা সরকারের বিপক্ষে নন, তবে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অন্যায্য।
আজ (শুক্রবার) বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিভিন্ন বাইকার গ্রুপের সদস্যরা মানববন্ধন করেন। তারা বলছেন, একজন বাইকারের প্রকৃত আয় কত, আদৌ আয় আছে কি না— তা যাচাই না করেই অগ্রিম কর আরোপ করা হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, একটি মোটরসাইকেল অনেকের কাছে বিলাসিতা নয়, বরং জীবিকা ও নিত্যপ্রয়োজনের অংশ। কেউ কেউ ৮০ হাজার টাকার মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালান, অথচ তাদেরও অগ্রিম কর দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। তারা প্রশ্ন তোলেন, দেড় লাখ টাকার দামি আইফোন মোবাইল ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এমন কর নেই, কিন্তু জীবিকার বাহন মোটরসাইকেলের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে কেন?
তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রায় ৪৮ লাখ বাইকারকে প্রভাবিত করবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার কোনো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করেনি। তারা দাবি করেন, বাইকারদের বিভিন্ন গ্রুপ থাকলেও এই আন্দোলনে সবাই একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন এবং এখানে কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপের ব্যানার নেই। এটিই বাইকারদের ঐক্যের প্রতীক।
বাইকারদের প্রধান দাবি দুটি হলো— অগ্রিম আয়কর বাতিল করা এবং আইন বা এসআরও জারির আগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা। তারা বলেন, মোটরসাইকেল কেনার সময়ই প্রায় ১৬০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়। এরপর আবার অগ্রিম কর আরোপ করা হচ্ছে ‘জুলুম’। নিয়ম অনুযায়ী আর্থিক বছর শেষে আয়কর দিতে আপত্তি নেই, কিন্তু আগাম কর চাপিয়ে দেওয়া অন্যায্য।
বাংলাদেশ ভেসপা কমিউনিটির অ্যাডমিন দিদার ইসলাম সুজন বলেন, এখানে কোনো সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সাধারণ বাইকার হিসেবে এসেছি। সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, বাইকারদের ডেকে তাদের মতামত নেওয়া হোক এবং এমন সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের জায়গায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়।
মানববন্ধনে শতাধিক বাইকার উপস্থিত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

