গাজীপুরের কাশিমপুরে এসএসসি পরীক্ষার্থী ছেলেকে মারধরের হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে শহীদুল ইসলাম (৬০+) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করা হলেও ঘটনার পাঁচ দিন পরও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানাধীন ২ নম্বর ওয়ার্ডের চক্রবর্তী মাটির মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, নিজ বাড়ির সামনে প্রতিবেশী মোর্শেদা বেগমের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির জেরে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মোর্শেদা তার ছোট ভাই আবু বক্করকে ডাকেন। পরে আবু বক্কর তার বোনজামাই রুবেলসহ আরও কয়েকজনকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা শহীদুল ইসলামের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছোট ছেলেকে মারধর শুরু করে এবং টেনে পাশের একটি ভবনের ছাদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বাবা শহীদুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঝাড়ুর শক্ত অংশ দিয়ে শহীদুল ইসলামের ঘাড়ে আঘাত করা হয় এবং তাকে কিল-ঘুষি মারা হয়। বাড়ির নারী সদস্যরাও হামলার শিকার হন বলে দাবি পরিবারের।
একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে শহীদুল ইসলামকে দ্রুত কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তবে ঘটনার পর পাঁচ দিন পার হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নিহতের ছেলে রায়হান বলেন, “ছোট বোনজামাইয়ের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মামলা করা হবে কি না।”
অন্যদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী জানান, তারা কথা-কাটাকাটির বিষয়টি শুনলেও প্রকাশ্যে কোনো মারধরের ঘটনা দেখেননি। তাদের দাবি, শহীদুল ইসলাম আগে একাধিকবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সেদিনও স্ট্রোকজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে গোপনে সমঝোতা ও আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা চলছে। যদিও এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিহতের ছেলে রায়হান দাবি করেন, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আরফান মেম্বার এবং আসুরুদ্দিন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন। তবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়ে উঠেনি।
কাশিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোল্লা খালিদ হোসেন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পড়ুন: ফরিদপুরে বাস-অ্যাম্বুলেন্স মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫
আর/


