বিজ্ঞাপন

নিরাপদ উচ্চমূল্যের সবজি আবাদে লাভবান দিনাজপুরে কৃষক

দিনাজপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নিরাপদ উচ্চমূল্যের সবজি চাষ পদ্ধতি। কীটনাশক ও বিষাক্ত সারের ব্যবহার ছাড়াই বিশেষ এই পদ্ধতিতে জৈব সারের ব্যবহার এবং পোকা দমনে প্রয়োগ করা হচ্ছে ফেরোমন ফাঁদ। এতে স্বল্প শ্রম, কম খরচ করেও দ্বিগুণ উৎপাদন পেয়ে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। এছাড়া বিষমুক্ত সবজি পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন ক্রেতারাও।

বিজ্ঞাপন

এমনটাই সাফল্য পেয়েছেন দিনাজপুর সদর উপজেলার ৯নং আস্করপুর ইউনিয়নের কৃষকেরা। আর কৃষকদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে দিনাজপুরের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান মহিলা বহুমূখী শিক্ষা কেন্দ্র (এমবিএসকে) কৃষি শাখা। এতে সহযোগিতা করেছে পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।

এমবিএসকে কৃষি শাখা সূত্র জানায়, উপজেলার কৃষকদের নিরাপদ সবজি আবাদে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই আবাদে দিনাজপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে নিরাপদ উচ্চমূল্যের সবজি চাষের নানা পদ্ধতি। এর ফলে জমিতে সবজি আবাদে ভালো ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি।

সরেজমিনে সদর উপজেলার ৯নং আস্করপুর ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়নের কৃষকরা নিরাপদ উন্নতমানের সবজি আবাদে ব্যবহার করেছেন নতুন এই পদ্ধতি। করলা, পটল, চিচিঙ্গা, কায়তা, মরিচ, বেগুন, কুমড়াসহ বিভিন্ন আবাদের মাঠজুড়ে অত্যন্ত পরিপাটি সবজি ক্ষেতগুলোতে বসানো হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ। এতে দমন করা হচ্ছে ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকার উপদ্রব। ব্যবহার করা হচ্ছে জৈব সার ও নিমের রস।

এমবিএসকে কৃষি কর্মকর্তা হোসেন মো. আবু সুফিয়ান সময়ের আলোকে জানান, ক্ষেতে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার ও নিমের রস। এর ফলে এই জমিতে কম সার প্রয়োগ করতে হয়, সেচের অপচয় হয় না এবং ক্ষতিকর পোকা আক্রমণ করতে পারে না। সবজি ক্ষেতগুলোতে বসানো হয়েছে ফেরোমন ফাঁদ। এতে ছত্রাক কিংবা বিভিন্ন রোগের আক্রমণও কম হয়। সর্বোপরি ভালো উৎপাদন হয়। তাই কৃষকদের উৎসাহিত করে এই পদ্ধতিতে সবজি আবাদ করানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

কৃষি এই কর্মকর্তা জানান, এই পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকের খরচ কমেছে এক তৃতীয়াংশ। এর একজন কৃষক ২৫ শতক জমিতে ২০ হাজার টাকার সবজি আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা।

ফেরোমন ফাঁদ নিয়ে এই কৃষি কর্মকর্তা জানান, ক্ষতিকর ঔষধ স্প্রে না করে এটি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব কীটপতঙ্গ দমন পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিকের বক্স ব্যবহার করা হয়। যার দুপাশে তিন কোণা ফাঁক থাকে। পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করতে স্ত্রী পোকার শরীর থেকে নিঃসৃত এক রকম রাসায়নিক পদার্থ বা স্ত্রী পোকার গন্ধ ব্যবহার করা হয় ফাঁদে। এর আকর্ষণে পুরুষ পোকা ফাঁদের দিকে ধেয়ে আসে এবং ফাঁদে পড়ে মারা যায়। এতে করে জমির ফসল নিরাপদ থাকে।

আস্করপুর ইউনিয়নের নাগোরপাড়া এলাকার কৃষক হাফিজুর রহমান, আব্দুস সামাদ, রবিউল ইসলাম, নীরেন, সাথী, লক্ষীরাণী, মৌসুমীসহ অনেকেই সময়ের আলোকে জানান, এই পদ্ধতিতে করলা, পটল, চিচিঙ্গাসহ নানা সবজি আবাদ করেছেন তারা। ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করায় জমির ফসল নিরাপদ থাকছে। পোকার আক্রমণের হাত থেকে রক্ষায় এটি কার্যকর পদ্ধতি। এছাড়াও রাসায়নিক সারের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার ও কেঁচো সার। ব্যবহার করা হয়েছে কোন রকম কীটনাশক ছাড়াই নিমের নির্যাস দিয়ে তৈরী রস। এতে উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে গেছে। যা দেখে আশেপাশের কৃষকরাও উদ্ধুদ্ধ হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

মহিলা বহুমূখী শিক্ষা কেন্দ্রের (এমবিএসকে) কৃষি কর্মকর্তা হোসেন মো. আবু সুফিয়ান সময়ের আলোকে জানান জানান, দিনাজপুরের প্রান্তিক কৃষকদের সংগঠিত করে জৈবিক পদ্ধতি ব্যবহার করে নিরাপদ উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে হাতে–কলমে কৃষকদেরকে নানা প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাই দিনাজপুর সদরে নিরাপদ উচ্চমূল্যের সবজি উৎপাদনে নানা পদ্ধতি ব্যবহার বেড়েছে। নিরাপদ সবজি উৎপাদনের সুফল বুঝতে পেরে কৃষকেরা সহজেই এই পদ্ধতিতে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এতে কৃষকরা লাভবান হচ্ছে এবং ক্রেতারাও নিরাপদ সবজি পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন বলে তিনি জানান। আগামীতে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আরও সবজি আবাদ করবে কৃষকেরা, এই প্রত্যাশা কৃষি কর্মকর্তার।

পড়ুন- জঙ্গল সলিমপুর: গভীর রাতে র‌্যাব ক্যাম্পে হামলা, বুলডোজার দিয়ে কেটে দেওয়া হয় সড়ক

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন