বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কোরিয়ায় ত্যাগ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তায় উদযাপিত পবিত্র ঈদুল আজহা

ত্যাগ, আত্মত্যাগ ও মানবতার মহিমায় দক্ষিণ কোরিয়ায় উদযাপিত হয়েছে মুসলিমদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের থেকে হাজার মাইল দূরে থাকলেও ঈদের আনন্দ, আবেগ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একত্রিত হয়েছেন প্রবাসী মুসলমানরা।

বিজ্ঞাপন

ঈদের দিন ভোর থেকেই রাজধানী সিউলের ইটেওয়ানে অবস্থিত Seoul Central Mosque-এ জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, উজবেকিস্তান, তুরস্কসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা মুসলমানদের পাশাপাশি কোরিয়ান মুসলিমরাও ঈদের জামাতে অংশ নেন। মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিণত হয় এক অনন্য আন্তর্জাতিক মিলনমেলায়।

ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, মানবকল্যাণ এবং যুদ্ধ-সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। অনেকের পরিবার দেশে থাকলেও প্রবাসী মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্যেই খুঁজে নেন আপনজনের সান্নিধ্য।

আগতরা বলেন, দেশের বাইরে থাকলেও ঈদের আনন্দে কোনো ঘাটতি নেই। বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের সঙ্গে এক কাতারে নামাজ আদায় এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে তারা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতিফলন দেখতে পান। তাদের প্রত্যাশা, ত্যাগ ও সম্প্রীতির এই বার্তা বিশ্বজুড়ে শান্তি ও মানবতার কল্যাণ বয়ে আনবে।

দক্ষিণ কোরিয়ায় মুসলিম জনগোষ্ঠী সংখ্যায় তুলনামূলকভাবে কম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে মুসলমানদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের কর্মী, শিক্ষার্থী, গবেষক ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে একটি বহুজাতিক মুসলিম সম্প্রদায়, যারা ধর্মীয় ও সামাজিক বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে চলেছেন।

ঈদ উপলক্ষে সিউল, বুসান, দেগু, গওয়াংজুসহ বিভিন্ন শহরের মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারে বিশেষ নামাজ, মিলনমেলা এবং কমিউনিটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কোথাও অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক মিলনমেলা, কোথাও বা ভাগাভাগি করা হয় খাবার ও ঈদের আনন্দ।

প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা ও দূরত্বের মাঝেও ঈদ যেন আবারও মনে করিয়ে দেয় মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের চিরন্তন শিক্ষা। ভাষা, জাতীয়তা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা ছাপিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায় প্রার্থনায় অংশ নেন হাজারো মুসল্লি।

দেশের বাইরে হলেও ঈদের আনন্দে ছিল না কোনো কমতি। বরং ত্যাগের মহিমা, সম্প্রীতির বার্তা এবং মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল আজহা। এটি ছিল ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি বহুজাতিক মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐক্য ও সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।

পড়ুন:ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৪৫ কিলোমিটার যানজট

দেখুন:ঘরে বসেই মাসে অর্ধ লক্ষ টাকা আয় করছেন সুমা!

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন