বিজ্ঞাপন

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ: প্রধানমন্ত্রী

ধূমপান থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে কড়া বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, নাটক-সিনেমা, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিংবা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাকের কোনো ধরনের ছদ্মবেশী প্রচারণা আর বরদাশত করা হবে না। এবারের প্রতিপাদ্য ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’-কে সামনে রেখে যুব সমাজকে সুরক্ষায় সরকার এবার পুরোপুরি ‘হার্ডলাইনে’।

প্রধানমন্ত্রীর ফেসবুক স্ট্যাটাসের মূল বক্তব্য তুলে ধরা হলো—
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যেকোনো তামাকজাত পণ্য হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগে, যার পেছনে মূল দায়ী তামাক। ‘টোব্যাকো এটলাস ২০২৫’ অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ মারা যায়। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, তামাকের কারণে স্বাস্থ্যব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

তামাক ও নিকোটিনের প্রলোভন থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী ও সংশোধন করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন থেকে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর ) আড়ালে তামাক কোম্পানির প্রচারণাও আর চালানো যাবে না।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের তামাক বিক্রি করা যাবে না। এছাড়া ১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার স্ট্যাটাসের শেষে বলেন, নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

একই সাথে তিনি দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন