দিনাজপুরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। শহরজুড়ে একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
সম্প্রতি দিনাজপুর প্রেসক্লাবের একাধিক এসির তামার তারসমৃদ্ধ পাইপ চুরির ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুধু প্রেসক্লাবই নয়, শহরের বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি অফিসেও চুরির ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। বিশেষ করে এসির তামার পাইপ, বৈদ্যুতিক তার ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ চোরচক্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চুরি ও মাদকের বিস্তার রোধে দৃশ্যমান তৎপরতা না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে বেশি ব্যস্ত দেখা যায় সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কিছু কর্মকর্তাকে। এ নিয়ে জনমনে ক্ষোভও বাড়ছে।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, বড় মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান বা তাদের পরিচয় প্রকাশ খুব কম দেখা গেলেও প্রায়শই ছোটখাটো মাদকসেবীদের আটকের ছবি প্রকাশ করা হয়। ফলে মাদকের মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দিনাজপুরে ডাকাতি, চুরি, প্রতারণা ও মাদক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধের ঘটনাও সামনে এসেছে। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অপরাধী গ্রেপ্তার করলেও সাধারণ মানুষের দাবি, অপরাধ সংঘটনের আগেই কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল বৃদ্ধি, সিসিটিভি নজরদারি জোরদার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।
দিনাজপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


