মাদারীপুরের রাজৈরে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন এক ভুক্তভোগী রোগী। মামলায় চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে চোখের ক্ষতি শরীর মুখমন্ডলের চামড়া পুড়েছে যাওয়ায় আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ দেলোয়ার হোসেন সোমবার (০১জুন) দুপুরে অভিযুক্ত ডাক্তার পিযুষ চন্দ্র মণ্ডলের বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন।
এদিকে ভুক্তভোগী ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. মামলা নং-৩১৭/২০২৬ দায়ের করেন গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী গ্রামের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন (৫৫)। মামলায় রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. পিযুষ চন্দ্র মণ্ডলকে আসামি করা হয়েছে।মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য রাজৈরের টেকেরহাটের ইউএস মডেল হাসপাতালের প্রাইভেট চেম্বারে ডা. পিযুষ চন্দ্র মণ্ডলের শরণাপন্ন হন দেলোয়ার হোসেন। সেখানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রায় ৮ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় করেন তিনি। পরবর্তীতে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন করেও সুস্থ না হওয়ায় একাধিকবার তার কাছে চিকিৎসা নেন।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, অবস্থার অবনতি ঘটলে ২০২৫ সালের মে মাসে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান তিনি। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানতে পারেন, দীর্ঘদিনের ভুল চিকিৎসা ও ভুল ওষুধ সেবনের কারণে তার মুখমণ্ডলের ত্বকে ক্ষতি হয়েছে এবং চোখের দৃষ্টিশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে অভিযুক্ত চিকিৎসকের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করলে তিনি বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ক্ষতিপূরণ না পেয়ে প্রথমে থানায় অভিযোগ করতে গেলে মামলা গ্রহণ না করে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ওই ডাক্তার আমাকে ভুল চিকিৎসা দেওয়ার কারণে আমার শরীরে বিভিন্ন স্থানে নানাবিধির সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই ডাক্তারের বিচার এবং আমার ক্ষতিপূরণ চাই।
এ বিষয়ে জানার জন্য রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার অভিযুক্ত ডা. পিযুষ চন্দ্র মণ্ডলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করো কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয় মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার অখিল সরকার বলেন, এ বিষয়ে যদি আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত নেওয়া ব্যবস্থা।
পড়ুন- রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: আদালতে প্রধান আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী


