শুধু বাংলাদেশি নয়, ভারতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদেরও বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশইন করা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন ভারতীয় নাগরিক। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে তিনি দাবি করেন।
নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর প্রতিনিধির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ কলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ওই ভারতীয় নাগরিকের নাম অনিলেশ মোহরি। তিনি কলকাতার বাসিন্দা এবং প্রায় ২০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন বলে জানান।
অনিলেশ মোহরি তার বক্তব্যে বলেন, ভারতে অবস্থানরত কিছু রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে ডোম হিসেবে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন এবং বাংলাদেশি শ্রমিকরা রাজমিস্ত্রি হিসেবে নির্মাণ খাতে কাজ করতেন বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, এসব রোহিঙ্গা শ্রমিক বিভিন্ন সময়ে টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতেন। পরে ভারতীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আটক করে বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। আমি যে পাড়ায় বসবাস করি সেখানে অন্তত ৩০ জন রোহিঙ্গা কাজ করতেন।
তার ভাষ্যমতে, যাদের বৈধ কাগজপত্র নেই বা যাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, তাদের অনেককেই বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্ত দিয়ে পুশইন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া অনেক সময় গোপনে বা রাতের আঁধারে সম্পন্ন হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
অনিলেশ মোহরি আরও দাবি করেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, মুর্শিদাবাদসহ কয়েকটি অঞ্চলে বাংলাদেশির শ্রমিকদের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন, বিশেষ করে নির্মাণ খাতে রাজমিস্ত্রি হিসেবে তাদের চাহিদা অনেক বেশি।
তিনি বলেন, ভারতে দক্ষ নির্মাণ শ্রমিকের ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যা। ফলে বিভিন্ন রাজ্য থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে শ্রমিক আনা হয়। বাংলাদেশি শ্রমিকরা এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শ্রমিকদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে অনেককে আটক করে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শ্রমিক সংকট আরও তীব্র হতে পারে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অনিলেশ মোহরি বলেন, এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শ্রমিক সংকট আরও প্রকট হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হতে পারে। এমনকি এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন রাজ্যের শ্রমিকদের আকাশপথে আনা-নেওয়ার মতো ব্যয়বহুল ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু সহিংস ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর হয়েছে। তার মতে, এসব ঘটনার পর বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের আটক করে সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
কুষ্টিয়ার ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, পুশইন সম্পর্কিত অপতৎপরতা রোধে সব সময় সতর্ক অবস্থানে আছে।স্থানীয় জনগণ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের যৌথ প্রচেষ্টায় পুশইস সংক্রান্ত অতৎপরতা রুখে দিতে সর্বদা সজাগ আছি।
পড়ুন:পটিয়ায় হামলায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন যুবক, গ্রেফতার ১
দেখুন:কেন পাচারের টাকা ফেরাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার? |
ইমি/


