ভোলা শহরের উকিলপাড়া গোরস্থান সড়কের আলোচিত মিতু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা জেলা পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়া মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার জানান, মিতুর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয় এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করেন।
তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাস্থলের আলামত, সিসিটিভি ফুটেজ এবং নিহতের মেয়ের বক্তব্য পর্যালোচনা করে আত্মহত্যার একটি ধারণা করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন এবং তদন্তের স্বার্থে সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ঘটনায় নিহত মিতুর বাবা বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, “মামলাটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার ধারায় রুজু হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফরেনসিক তথ্য ও তদন্তে প্রাপ্ত নতুন কোনো তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে, সেটিই আদালতে উপস্থাপন করা হবে।”
এ সময় পুলিশ সুপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব, অনুমাননির্ভর মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চলমান তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো তথ্য প্রচার করা উচিত নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান তিনি।
এসময় তিনি আরো বলেন, এঘটনায় ভোলা সদর মডেল থানায় মিতুর বাবা বাদী হয়ে মামলা দাখিলের পরের দিন তার মা বাদী হয়ে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার আলোকে আদালত জানতে চেয়েছে এবিষয়ে পুলিশ কী ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে এটিকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি পুলিশ সুপারের।
তিনি বলেন, মিতুর মার আদালতে দাখিলকৃত মামলার তদন্তও পুলিশের উপর দিয়েছে অতএব তদন্তে যা বেরিয়ে আসবে, সেটিই আদালতে প্রেরণ করা হবে।
গত ৪ই জুন সকাল ১০টায় এক সন্তানের জননী মিতুর মরদেহ গোরস্থান সড়ক শ্বশুর বাড়ীর ভাড়াটিয়া বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। মিতুর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভোলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবার ঘটনাটিকে হত্যা দাবি করলেও পুলিশ বলছে, তদন্ত ও ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পড়ুন : সাভারে পুলিশের উপর হামলার মামলায় প্রধান আসামী গ্রেপ্তার


