বিজ্ঞাপন

দুবাই বিমানবন্দরে পরিত্যক্ত স্যুটকেসে মিলল সাপ-বিচ্ছুসহ ২২৩ প্রাণী

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি পরিত্যক্ত ও অচিহ্নিত স্যুটকেস থেকে ২২৩টি জীবন্ত বন্যপ্রাণী উদ্ধার করেছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম অস্বাভাবিক বন্যপ্রাণী পাচার চেষ্টার ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আজ শুক্রবার (১২ জুন) খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

প্রতিদিন লাখো যাত্রীর আনাগোনার এই ব্যস্ত বিমানবন্দরে স্যুটকেসটি প্রথমে সন্দেহজনক বলে মনে না হলেও নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের সময় কিছু ঝুঁকির সূচক ও পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কাস্টমস কর্মকর্তারা সেটাকে আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন।

স্যুটকেসটি খুলে কর্মকর্তারা বিস্মিত হন। ব্যক্তিগত সামগ্রীর পরিবর্তে এর ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল শত শত জীবন্ত প্রাণী। উদ্ধার করা প্রাণীদের মধ্যে ছিল ১২৯টি টিকটিকি, ৩৬টি বিচ্ছু, ৮টি সাপ এবং ৫০টি ব্যাঙ। মোট ২২৩টি প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, উদ্ধার হওয়া কয়েকটি প্রজাতি কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনড্যানজার্ড স্পেসিজ অব ওয়াইল্ড ফনা অ্যান্ড ফ্লোরা তথা আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ চুক্তির (সিআইটিইএস) আওতাভুক্ত সংরক্ষিত প্রাণী হতে পারে।

জব্দের পর দুবাই কাস্টমস সংযুক্ত আরব আমিরাতের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রাণীগুলোর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করে। পাশাপাশি আইনি, পশুস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সব প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী পাচারকে অন্যতম লাভজনক আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট এবং আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও পরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাচারকারীরা বিভিন্ন ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে সংরক্ষিত প্রাণী এক দেশ থেকে অন্য দেশে পাচারের চেষ্টা করছে।

বিশ্ব বাণিজ্য ও যাত্রী পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে দুবাই এই ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় উন্নত প্রযুক্তি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরিদর্শন দল ব্যবহার করছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মারা গেলেন থাই রাজকুমারী বজ্রকিতিয়াভা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন