একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় বমি ও ডায়রিয়া। এরপর একে একে হাসপাতালে ছুটে আসতে থাকেন অসুস্থ মানুষজন। মাদারীপুর শহরের একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর খাবার খেয়ে ফুড পয়জনিংয়ের শিকার হয়ে একই পরিবারের তিনজনসহ অন্তত ১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ঘটনায় জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার রাত ৯টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে এসব রোগী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর শহরের পুরানবাজার এলাকায় অবস্থিত ‘আরএফসি’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খাওয়ার পর শুক্রবার বিকেল থেকেই কয়েকজন ক্রেতা অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পৌর শহর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তারা খাদ্যে বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছেন।
অসুস্থদের মধ্যে রয়েছেন শহরের ১ নম্বর শকুনি এলাকার হাফসা আক্তার, জান্নাত, ফাতেমা বেগম ও জেসমনি আক্তার; পুরানবাজার এলাকার কুতুবউদ্দিন, রোকসানা বেগম ও নাবিল মাহামুদ; পাঁচখোলা এলাকার রাবিক হোসেন; তালতলা এলাকার ইব্রাহীম; ঘটমাঝি এলাকার তানিয়া; শরীফবাড়ি এলাকার লুবনা আক্তার; পূর্ব রাস্তি এলাকার আমির হাওলাদার; চর কালিকাপুর এলাকার শাওন ঘরামী এবং শরীয়তপুরের মাতালমার ব্রিজ এলাকার সাইফ হোসেন। এছাড়া কুলপদ্বী এলাকার সুমাইয়া আক্তার ও মিম আক্তারকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
আক্রান্তদের অভিযোগ, রেস্তোরাঁটিতে পরিবেশিত অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের খাবার খাওয়ার কারণেই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
অসুস্থ শিশু আমির হাওলাদারের মা কবিতা আক্তার বলেন, “আমার ছেলে আরএফসি থেকে নানরুটি ও গ্রিল খেয়েছিল। এরপর থেকেই বারবার বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। ছেলেটার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগবে।”
তালতলা এলাকার রকিবউদ্দিন আহমেদ জানান, তার পরিবারের চারজন সদস্য একই সঙ্গে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, “চারজনই ওই রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়েছিল। এরপর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরএফসি রেস্তোরাঁর মালিক রাহাত ব্যাপারী বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমি নিজেই হাসপাতালে গিয়েছি। আক্রান্তদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেব। আমাদের খাবারে কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা নিশ্চিত নই। তবে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সঙ্গে খাবার পরিবেশন করা হবে।”
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) অখিল সরকার বলেন, “ফুড পয়জনিংয়ের উপসর্গ নিয়ে বেশ কয়েকজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের অধিকাংশই একই রেস্তোরাঁয় খাবার খেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন। ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।”
এদিকে নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর মাদারীপুর কার্যালয়ের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি আমরা নিজ উদ্যোগেও রেস্তোরাঁটি পরিদর্শন করব। খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার পর শহরজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, শুধু অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।


