কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে দলের দারুণ পারফরম্যান্স এবং সমর্থকদের উচ্ছ্বাসে ভর করে প্রথমবারের মতো শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছিল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
চার বছর পরও সেই ধারাবাহিকতায় ভাটা পড়েনি। ২৩তম বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র করে নিজেদের সামর্থ্যের আরেকটি প্রমাণ দিয়েছে মরক্কো। বাছাইপর্বে শীর্ষে থাকা ব্রাজিলকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে তারা।
ম্যাচ শেষে মরক্কোর ম্যানেজার মোহাম্মদ ওয়াহবি জানান, তাদের লক্ষ্য আগের সাফল্য পুনরাবৃত্তি করা নয়, বরং আরও বড় কিছু অর্জন করা। তিনি বলেন, ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার মতো সাফল্য আবার চান কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, সেমিফাইনালের গণ্ডি পেরিয়ে আরও এগিয়ে যেতে চান। তার মতে, এক পয়েন্ট পাওয়া ভালো হলেও দল আরও বেশি কিছু প্রত্যাশা করেছিল এবং সামনে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচটি আশরাফ হাকিমির জন্যও ছিল বিশেষ। মরক্কোর জার্সিতে এটি ছিল বিশ্বকাপে তার ১১তম ম্যাচ। এর মাধ্যমে আফ্রিকার ফুটবলারদের মধ্যে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার যৌথ রেকর্ডে নাম লেখান তিনি। ক্যামেরুনের ফ্রাঁসোয়া ওমাম-বিয়িক এবং ঘানার আসামোয়া গিয়ানের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন মরক্কোর এই অধিনায়ক।
রোববারের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মরক্কো। প্রথমার্ধে তারা ১২টি শট নেয়, যা ব্রাজিলকে চাপে ফেলে দেয়। প্রতিপক্ষের খেলায়ও এর প্রভাব দেখা যায়; ভুল পাস ও ভুল শটের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিটে ৫টি শট নেওয়া মাত্র দ্বিতীয় দল মরক্কো। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিল পর্তুগাল।
ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ড্রকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন হাকিমি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ফেভারিটদের অন্যতম একটি দলের বিপক্ষে খেলা সহজ ছিল না। ফলাফল ড্র হলেও দলের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট। তবে ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। তার ভাষ্য, ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রেখে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও ভালো করার চেষ্টা করবে মরক্কো।
পড়ুন: ড্র নিয়ে বিশ্বকাপ শুরু ব্রাজিলের
আর/


