মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে কমতে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানির মূল্য। ইতোমধ্যে ৪ শতাংশ মূল্যহ্রাস ঘটেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার পর প্রতি ব্যারেলে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ দাম কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্র্যান্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের। এই মূল্যহ্রাসের জেরে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হচ্ছে ৮৪ ডলারে।
দাম কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অপর ব্র্যান্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটেরও (ডব্লিউটিআই)। সিএনএনের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর এই ব্র্যান্ডটির তেলের দাম কমেছে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮১ ডলারে।
গতকাল রোববার সন্ধ্যার দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ঘোষণা দেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবসান চুক্তি হয়ে গেছে এবং আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে।
এই চুক্তিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহাবাজ শরিফ বলেছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে একটি চুক্তিসই করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।
এর আগে গত রোববার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন থেকে ‘টোল মুক্ত’ থাকবে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধও তুলে নেওয়া হবে।
ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, খসড়া চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন। এর ফলে তেলের দামে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির যে প্রভাব ছিল, তা এখন দ্রুত কমতে শুরু করেছে।
তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ ছিল। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়ে সরবরাহ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই পথটি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে লাখ লাখ ব্যারেল তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘শান্তি চুক্তি’ চূড়ান্ত


