বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের টয়লেটে আপত্তিকর অবস্থায় নারী-পুরুষ আটক, অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ ওয়ার্ডবয়ের

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক যুবক ও তার নারীর আপত্তিকর ভিডিও ধারণের পর তাঁদের আটকে রেখে মারধর, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে নেওয়া এবং ওই ভিডিও দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের আউটসোর্সিং নিয়োগপ্রাপ্ত ওয়ার্ডবয় শাহীন এর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় কয়েকজন আনসার সদস্যের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।

১৪জুন (রবিবার) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডের টয়লেটে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও জানা যায়, ওই যুবক হিন্দু ধর্মালম্বী এবং তার নাম বিজয় সরকার, বাড়ি হরিরামপুর উপজেলা এবং তবে মেয়েটি হল মুসলিম ধর্মের ।

ভুক্তভোগী যুবকের ভাষ্যমতে, রবিবার বিকালে হরিরামপুর উপজেলার একটি গ্রাম থেকে তাঁর অসুস্থ বৃদ্ধ নানীকে চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করান তিনি। তবে নানীকে দেখভালের জন্য তার সাথে কোন নারী না থাকার সুযোগে তার পূর্বপরিচিত এক মেয়ে (প্রেমিকা) কে সন্ধ্যা বেলা খালার বাসায় যাবার মিথ্যা কথা বলে হাসপাতালে আসতে বলে ।

তবে, মাঝরাতে আনুমানিক সাড়ে তিনটার দিকে হাসপাতালের একটি টয়লেটে তারা দৈহিক মেলামেশা করে।

এসময়, ঘটনাটি আঁচ করতে পেরে নাইট ডিউটিতে দায়িত্বরত ওয়ার্ডবয় শাহিন সুকৌশলে তাঁদের আপত্তিকর ভিডিও ধারণ করেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ভিডিও ধারণের কিছুক্ষণ পর তাঁদের হাসপাতালের একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে ওয়ার্ডবয় শাহিন এবং আনসার সদস্য তাদের মারধর করেন। পরে তাঁদের কাছ থেকে একটি আইফোন-১৩ মডেলের মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩ হাজার ৩০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ভুক্তভোগী যুবকের অভিযোগ, প্রায় আধা ঘণ্টা পর ওয়ার্ডবয় শাহিন ও তাঁর এক সহযোগী ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে নারীসঙ্গীকে নিয়ে রাত কাটানোর আপত্তিকর প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হলে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

১৫ জুন (সোমবার) বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি বলে আনসার প্লাটুন কমান্ডার আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ঘটনার পর হাসপাতালের আনসার প্লাটুন কমান্ডার আলম ও সহকারী প্লাটুন কমান্ডার (এপিসি) রাসেল ভুক্তভোগী যুবকের মোবাইল ফোন ফেরত দেন।

এ বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “আপনার কাছ থেকেই প্রথম বিষয়টি জানলাম।” পরে তিনি আনসার কমান্ডার ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ডেকে ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক খোঁজখবর নেন।

সহকারী প্লাটুন কমান্ডার রাসেল বলেন, “সকাল নয়টার দিকে ওয়ার্ডবয় শাহিনের সঙ্গে দেখা হলে আমি ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাই। তিনি নাস্তা খেয়ে আসবেন বলে বের হন। এরপর আর ফিরে আসেননি।”

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত ওয়ার্ডবয় শাহিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিশেষে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রশাসনিক তদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : দিনাজপুরে বোচাগঞ্জে সাবেক স্ত্রীর হাতে রাইস মিল মালিক খুন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন