‘আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কীভাবে অনুভ‚তি প্রকাশ করবো বুঝতে পারছি না। আমার যে এত ভালো লাগছে তা বুঝাতে পারছি না। সত্যি, এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা একটা দিন। এর আগে আমি কখনোই এত ভালো খেলিনি।’ ছলছল চোখে কাঁপা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন অ্যামেচার গলফার মোহাম্মদ রাহিম হোসেন। নারায়নগঞ্জের জলসিড়ি গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত প্রথম ‘জাতীয় র্যাংকিং প্রতিযোগিতা ২০২৬’ প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাসে নাম খেলালেন সাভারের এই অ্যামেচার গলফার।
বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের এই আয়োজনে নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সোনিয়া আক্তার। তার চোখে মুখেও আনন্দের ঝিলিক। সোনিয়া বলেন, ‘আমাদের অ্যামেচার গলফারদের জন্য এমন সুন্দর একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করায় বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ। আর এমনকি টুর্নামেন্টের প্রথম আসরে নারী বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে আমি খুবই গর্বিত।’
তিন দিনের এই জাতীয় অ্যামেচার র্যাংকিং টুর্নামেন্টে পুরুষ বিভাগে চ্যাম্পিয়ন মোহাম্মদ রাহিম হোসেন পারের চেয়ে ৫ শট বেশি খেলেছেন। অ্যামেচার গলফার হিসেবে নিজের সেরা টুর্নামেন্ট তার। নারী গলফে চ্যাম্পিয়ন সোনিয়া আক্তার পারের চেয়ে দুই শট বেশি খেলেছেন।
আজ জলসিড়ি গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দুই বিভাগের চ্যাম্পিয়নের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধান অতিথি বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ রাজ্জাক। এ সময় তিনি গলফারদের পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করলেও আরও ভালো খেলার ওপর জোর দেন। মেজর জেনারেল (অব.) মাসুদ রাজ্জাক বলেন, ‘ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে হবে। গলফারদের উদ্দেশ্যে একটা কথা বলি, আপনারা কেউ গলফকে চ্যারিটি হিসেবে নেবেন না। যদি খেলতে চান তাহলে খুবই সিরিয়াস হতে হবে। আর সিরিয়াস হলে গলফে অনেক ভালো করা সম্ভব।’
বাংলাদেশ গলফ ফেডারেশনের সেক্রেটারী জেনারেল ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাইদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমরা প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করলাম। এটা একটা মাইলস্টোন। এখন থেকে বছরে অন্তত তিনটি করে জাতীয় অ্যামেচার র্যাংকিং টুর্নামেন্ট আয়োজন করবো না। এমন টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারবো আমাদের গলফের প্ইাপলাইনের কী অবস্থা?!’ তিনি বলেন, ‘র্যাংকিং টুর্নামেন্টে যারা ভালো খেলবে তাদেরকে আমরা বিশেষভাবে নার্চার করবো, যাতে এখান থেকেই আমাদের ভবিষ্যত সিদ্দিকুর, জামাল বেড়িয়ে আসে।’
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

