বিজ্ঞাপন

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: মদনে মানবপাচার মামলার মূলহোতা আটক

বিদেশে বৈধ চাকরি এবং আকামা (কর্ম অনুমতিপত্র) করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি খসরু পারভেজ ভূঁইয়াকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে নেত্রকোনার মদন থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃত খসরু পারভেজ কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার আনডর আলীর ছেলে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৬ জুন) দুপুরের দিকে তাকে নেত্রকোনা জেলা আদালতে প্রেরণ করেছে থানা পুলিশ। এরআগে, গতকাল (মঙ্গলবার) দিনগত মধ্যরাতে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার বাদলা থানেশ্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালাউদ্দিন করিমের নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মো. হাসানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। দলে আরও ছিলেন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শাকিব এবং পুলিশ কনস্টেবল আকরাম।

মামলার অভিযোগ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, মোহন নামের এক ব্যক্তিকে বিদেশে বৈধ চাকরি ও আকামা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন খসরু পারভেজ ভূঁইয়া ও তার দুই সহযোগী। এই আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা পর্যায়ক্রমে মোহনের কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো বৈধ কাগজপত্র বা কাজের ব্যবস্থা তারা করেননি।

উল্টো মোহনকে বিদেশে পাঠিয়ে চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। সেখানে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তায় আরও অর্থ খরচ করে কোনোমতে দেশে ফিরে আসেন ভুক্তভোগী মোহন।

দেশে ফিরে ভুক্তভোগী মোহন অভিযুক্তদের কাছে টাকা ফেরত চান এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণ জানতে চান। অভিযুক্ত খসরু পারভেজ ও তার সহযোগীরা টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও তা ফেরত দিতে পরিষ্কার অস্বীকৃতি জানায়। উপায়ন্ত না দেখে ভুক্তভোগী আদালতের দ্বারস্থ হন।

পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে গত ১২ জুন ‘বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’ আইন অনুযায়ি নেত্রকোনার মদন থানায় মামলা রুজু করা হয়।

এ বিষয়ে মদন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সালাউদ্দিন করিম জানান, আদালতের নির্দেশে রুজু হওয়া মামলাটির অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‍“অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

পড়ুন- আদ্‌-দ্বীনে শিশু মৃত্যুর দায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন