চট্টগ্রামে আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলায় রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে প্রধান আসামি আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার কন্যা আয়াত বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তের দায়িত্ব নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার ৯ দিন পর, ২৪ নভেম্বর রাতে সাবেক ভাড়াটিয়া আবির আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে আবির স্বীকার করেন, তিনি মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করেন। তবে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা দাবি করতে না পারায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে জানান তিনি।
পরে শিশুটির কান্না ও চিৎকারে পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করা হয়। এরপর লাশ গোপন করতে মরদেহ খণ্ডিত করে পতেঙ্গা এলাকার আউটার রিং রোড সংলগ্ন সাগর ও আকমল আলী খালের মোহনায় ফেলে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে পিবিআই আকমল আলী খালের স্লুইস গেটের পাশ থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে প্রধান আসামি হিসেবে আবির আলীকে অভিযুক্ত করা হয়। একই ঘটনায় তথ্য গোপন ও লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগে আবিরের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর বন্ধুকেও অভিযুক্ত করা হয়। বয়স বিবেচনায় ওই কিশোরের বিচার শিশু আদালতে পৃথকভাবে চলছে।
পড়ুন: আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই বাঙালি মুসলিমদের বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে ভারত: এইচআরডব্লিউ
আর/


