বিজ্ঞাপন

ধর্ম নিয়ে পুরনো মন্তব্যে ফের আলোচনায় থালাপতি বিজয়

দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা এবং বর্তমান তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়কে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে তাঁর একটি পুরনো সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। ধর্ম, আধ্যাত্মিকতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এক মাস আগে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিজয়ের ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক দর্শন এবং অতীতের নানা মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘বিস্ট’ সিনেমার প্রচারণার সময় দেওয়া একটি সাক্ষাৎকার বর্তমানে নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে পরিচালক নেলসন দিলীপকুমারের সঙ্গে কথোপকথনের এক পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং আধ্যাত্মিক অনুভূতি নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন বিজয়। তিনি জানান, তাঁর পরিবারে কখনও ধর্মকে বিভেদের কারণ হিসেবে দেখা হয়নি। বরং পারিবারিক পরিবেশ থেকেই তিনি সব ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা পেয়েছেন।

বিজয় বলেন, তাঁর বাবা-মায়ের ভিন্ন ধর্মের হলেও পরিবারে কখনও ধর্মীয় বিভাজন বা বিরোধ তৈরি হয়নি। বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার মধ্য দিয়েই তিনি বড় হয়েছেন। এ কারণেই ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে মানবিক মূল্যবোধকে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে পরিচালক নেলসন ‘বিস্ট’ সিনেমার শুটিংয়ের সময়ের একটি ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, একদিন রাতের খাবার শেষে বিজয় কিছু সময়ের জন্য সবার কাছ থেকে আলাদা হয়ে যান। পরে জানতে চাইলে অভিনেতা জানান, তিনি কাছের একটি গির্জায় গিয়েছিলেন সিনেমার পুরো টিমের সফলতা ও কল্যাণ কামনায় প্রার্থনা করতে।

এ প্রসঙ্গে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে বিজয় বলেন, “গির্জায় গেলে আমি এক ধরনের শান্তি অনুভব করি। তবে শুধু গির্জাই নয়, আমি মন্দির এবং দরগাতেও গিয়েছি। সব জায়গাতেই একই ধরনের ইতিবাচক অনুভূতি পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে তিনি কোনো ধর্মীয় বিভাজনে বিশ্বাস করেন না। মানুষের বিশ্বাস, প্রার্থনা এবং অন্তরের শান্তিই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সাক্ষাৎকারে বিজয় জানান, তিনি দক্ষিণ ভারতের বেশ কয়েকটি বিখ্যাত মন্দিরে গিয়েছেন। এর মধ্যে পিল্লাইয়ারপট্টি ও তিরুনাল্লার মন্দিরের নাম উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ‘কাঠতি’ সিনেমার শুটিং চলাকালে অন্ধ্রপ্রদেশের ঐতিহ্যবাহী আমিনপীর দরগায়ও যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন।

বিজয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় স্থান ভিন্ন হলেও সেখানে গিয়ে তিনি একই ধরনের প্রশান্তি ও মানসিক স্বস্তি অনুভব করেছেন। তাঁর মতে, মানুষ যে ধর্মেরই হোক না কেন, প্রার্থনার মূল উদ্দেশ্য হলো আত্মিক শান্তি ও মানবকল্যাণ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে যখন ধর্মীয় বিভাজন ও সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা যায়, তখন বিজয়ের এই বক্তব্য সম্প্রীতি ও সহনশীলতার বার্তা বহন করে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর এই পুরনো মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় আসার অন্যতম কারণও এটি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিজয়ের বক্তব্যকে ধর্মীয় সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। অনেকে মনে করছেন, একজন জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর এমন বার্তা সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের যে বার্তা বিজয় দিয়েছেন, তা এখনও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক বলেই মনে করছেন তাঁর ভক্ত ও সমর্থকরা।

পড়ুন:কালিয়াকৈরে ট্রান্সফরমারে আগুন, আতঙ্কে এলাকাবাসী

দেখুন:ই/স/রা/ই/লে/র খেলা শেষ করবে ইরান?

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন