দেশীয় প্রযুক্তি ও নিজস্ব উদ্ভাবনী চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরি করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুর উপজেলার এক কলেজ শিক্ষক। পরিবেশবান্ধব এই গাড়িটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।
উদ্ভাবনী এই উদ্যোগের নেপথ্যের মানুষ শাহাজাদপুর উপজেলার তালতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং ঠুটিয়া ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান। দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি নিজ উদ্যোগে তৈরি করেছেন নতুন ডিজাইনের একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি।
জানা গেছে, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত গাড়িটিতে ব্যবহার করা হয়েছে পাঁচটি শক্তিশালী ব্যাটারি। একবার পূর্ণ চার্জে গাড়িটি প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পথ চলতে সক্ষম। স্বল্প ব্যয়ে নির্মিত এই যানবাহনটি জ্বালানি সাশ্রয়ী হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণও কমাতে সহায়ক বলে জানিয়েছেন উদ্ভাবক।
গাড়িটি এলাকায় প্রদর্শনের পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে গাড়িটি দেখছেন এবং এর কার্যক্ষমতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। অনেকেই গাড়িটিতে চড়ে এর পারফরম্যান্সও পরীক্ষা করে দেখছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা আগে টেলিভিশন বা ইন্টারনেটে বৈদ্যুতিক গাড়ির কথা শুনেছেন বা দেখেছেন। কিন্তু নিজেদের এলাকার একজন শিক্ষক এমন একটি গাড়ি তৈরি করেছেন, যা তাদের জন্য গর্বের বিষয়।
তারা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে আরও উৎসাহিত করবে।
উদ্ভাবক মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বৈদ্যুতিক গাড়ি তৈরির পরিকল্পনা ছিল। জ্বালানির ক্রমবর্ধমান খরচ ও পরিবেশ দূষণের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমি এই গাড়িটি তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি সংযোজন করে গাড়িটির সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মিজানুর রহমানের এই উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং স্থানীয় পর্যায়ে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও মেধা, সৃজনশীলতা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নতুন কিছু সৃষ্টি করা সম্ভব—এই বার্তাই তুলে ধরেছে তার উদ্ভাবিত বৈদ্যুতিক গাড়ি।
পড়ুন- যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের ১৪ দফা চুক্তি প্রকাশ, দেখে নিন কী আছে?


