ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখার সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এরআগে, ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁইয়ের সই করা এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্মকমিশনে (পিএসসি) চিঠি পাঠানো হয়।
গোলাম সাকলায়েন বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গোলাম সাকলায়েন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঢাকায় ডিবির গুলশান বিভাগে কর্মকালীন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরীমণির সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, তার সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন এবং নিজের সরকারি বাসভবনে নিজ স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২০ ফ্রেব্রুয়ারি গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৩ (খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা, অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠিয়ে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। অভিযোগনামার জবাব, ব্যক্তিগত শুনানি ও কারণ দর্শানোর জবাব পাওয়ার পর অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে গুরুদণ্ড আরোপের সম্ভাবনা থাকায় আনীত অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৭(২) (ঘ) মোতাবেক তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে আনীত ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা মতামত দেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে তার ওপর গুরুদণ্ড আরোপের পর্যাপ্ত ভিত্তি থাকায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৭(৯) মোতাবেক তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি সে জবাবও দেন। নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় তার বিরুদ্ধে আনীত ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৪ (৩) (খ) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি হতে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের’ প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সে পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৭(১০) বিধি এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস, ১৯৭৯ এর ৬ নং রেগুলেশন মোতাবেক এ গুরুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে পরামর্শের জন্য সরকারি কর্ম কমিশনকে অনুরোধ জানানো হলে সরকারি কর্ম কমিশন তাকে চাকরি হতে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ আরোপ করা যায় বলে পরামর্শ দেয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর ৪(৬) বিধি অনুযায়ী গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি হতে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের’ বিষয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি ১৭ জুন তা অনুমোদন করেন।
পড়ুন : ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের মামলার আসামির পক্ষে অবস্থান: দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল


