বিজ্ঞাপন

প্যারাগুয়ের কাছে ১-০তে পরাজিত তুরস্ক, বিদায় বিশ্বকাপ থেকে

সান ফ্রান্সিসকোতে চোখের পলক ফেলার আগেই হলো গোল। বক্সের বাইরে থেকে মাতিয়াস গালারজা চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল করেন ৬৪ সেকেন্ডে। তারপর পুরো ম্যাচে আকাশ-পাতাল ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল প্যারাগুয়ে। শেষ অর্ধে পুরোটা সময় তারা একজন কম নিয়ে খেলল। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেললেও মিনিটখানেকের মধ্যে খাওয়া গোলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে হার দেখল তুরস্ক।

২০২৬ বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপের দুর্দান্ত লড়াইয়ে ১০ জনের দল নিয়েও তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে প্যারাগুয়ে। ম্যাচে লাল কার্ডে একজন খেলোয়াড় কমে গেলেও রক্ষণভাগের সাহসী পারফরম্যান্সে জয় নিশ্চিত করে এই ল্যাটিন আমেরিকার দলটি। আর হেরে নকআউটের স্বপ্ন ভঙ্গ হলো তুরস্কের।

শনিবার (২০ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় দুদল।

ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলগুলোর একটি করে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। মিডফিল্ডার মাতিয়াস গালারজা প্রায় ২৫ মিটার দূর থেকে নিচু শটে জোরালো এক শট নিয়ে বল জালে জড়ান। তার এই গোলটি এই বিশ্বকাপের দ্রুততম গোল হিসেবে রেকর্ড গড়ে, যা এর আগে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে করা, মরক্কোর ইসমাইল সাইবারির ৭১ সেকেন্ডের গোলকে ছাড়িয়ে যায়।

তবে, ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে। তুরস্কের মের্ত মুলদুরের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের মুখ চেপে ধরার অভিযোগে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। টুর্নামেন্টে নতুন নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের আচরণের কারণে তিনিই প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শাস্তি পান।

একজন কম নিয়ে খেলতে নামলেও দমে যায়নি প্যারাগুয়ে। পুরো ম্যাচজুড়ে তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ সামলিয়ে তারা রক্ষণভাগে দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখায়।

প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর এই জয়, প্যারাগুয়ের জন্য এক দারুণ ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা।

৭৮ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল তুরস্ক। বড় কোনো সুযোগ নষ্ট তাদের করতে হয়নি। ৩টি বড় সুযোগ নষ্ট করে তুর্কিরা। পরিপূর্ণ পাস ছিল ৫৫৯টি, বিপরীতে প্যারাগুয়ের ৯৫টি। তুরস্কের এক্সপেক্টেড গোল ছিল ২.১২, প্যারাগুয়ের ০.৩২! এক কথায় পুরো ম্যাচে একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল তুরস্কের, কিন্তু ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষণ তৈরি হয়েছিল এক মিনিট ৪ সেকেন্ডেই। তাতে দারুণ এক ম্যাচ খেলেও বিদায় নিতে হলো তুরস্ককে।

২০০২ সালে চমক দেখিয়ে সেমিফাইনাল খেলা দলটি ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে হতাশা নিয়ে ছিটকে গেল। প্রথম ম্যাচ তারা অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল। দুই ম্যাচেই হেরে বিদায় নিতে হলো তাদের। আর প্যারাগুয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে টিকে থাকল। সমান পয়েন্টে দুই নম্বরে অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, পরিসংখ্যান অনুযায়ী ম্যাচে বলের দখলে সম্পূর্ণ আধিপত্য ছিল তুরস্কের। বলের পজিশন ছিল ৭৯ শতাংশ। তারা ৩২টি শট নিলেও লক্ষ্যে ছিল মাত্র ৫টি। অন্যদিকে, প্যারাগুয়ে মাত্র ২১ শতাংশ বল দখলে রেখে ৫টি শটের মধ্যে ২টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।

তুরস্কের ১২টি কর্নার ও ধারাবাহিক চাপ সত্ত্বেও গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয় তারা। ম্যাচের শেষ পর্যন্ত রক্ষণে অটল থেকে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।

এই জয়ে এবারের আসরে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে প্যারাগুয়ে, আর তুরস্কের নকআউট স্বপ্নে লেগেছে বড় ধাক্কা। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই, বিদায় নিতে হলো বিশ্বকাপ থেকে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ফের ব্রাজিলের দখলে

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন