মরক্কোর বিপক্ষে কষ্টার্জিত ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল ব্রাজিল। তবে ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে দারুণ এক জয়ে সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছে সেলেসাওরা। ম্যাথিউস কুনহার জোড়া গোলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। বিরতির পর আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি হলেও গোলের ব্যবধান আর বাড়েনি। শেষ পর্যন্ত হাইতিকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে তারা।
দুই ম্যাচ শেষে মরক্কোর সমান ৪ পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে (+৩) এগিয়ে থাকায় সবার ওপরে অবস্থান করছে ব্রাজিল। এর আগে স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছিল মরক্কো (+১), তবে ব্রাজিলের জয়ের পর তারা নেমে গেছে দ্বিতীয় স্থানে। অন্যদিকে, হাইতিকে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা স্কটল্যান্ডের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ হবে কার্লো আনচেলত্তির দল।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে উল্লাসে মেতে ওঠেন ব্রাজিল সমর্থকেরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে এটি ব্রাজিলের প্রথম জয়। তবে স্বস্তির এই জয় সত্ত্বেও গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে এখনও অনেক হিসাব-নিকাশ বাকি।
প্রথমার্ধে তিন গোলের লিড নেওয়া ব্রাজিলের কাছ থেকে দ্বিতীয়ার্ধেও আরও গোলের প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। যদিও এ অর্ধে একটি গোল বাতিল হয় তাদের। অন্যদিকে, হাইতিও বেশ কয়েকটি আক্রমণ শানিয়ে ব্রাজিলকে চাপে ফেলেছিল। ব্রাজিল গোলরক্ষককে অন্তত দুই-তিনটি নিশ্চিত গোল ঠেকাতে হয়েছে, পাশাপাশি একটি গোললাইন সেভও দেখা গেছে।
পরিসংখ্যানের প্রায় সব বিভাগেই ব্রাজিলের তুলনায় পিছিয়ে ছিল হাইতি। তবু তাদের পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকবার ব্রাজিলের রক্ষণভাগে ভাঙন ধরাতে সক্ষম হয় দলটি। যা কোচ আনচেলত্তির জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে। টানা দুই পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেলেও ব্রাজিলের বিপক্ষে লড়াকু ফুটবল খেলাই হাইতির অন্যতম প্রাপ্তি।
ম্যাচে পাঁচবার বল জালে জড়ালেও ব্রাজিলের বৈধ গোল ছিল তিনটি। দুই অর্ধে একটি করে গোল বাতিল হয় তাদের। এছাড়া একটি প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ২৩ মিনিটে কুনহার গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। গুইমারেসের পাস থেকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নেওয়া শট হাইতির গোলরক্ষক পুরোপুরি ঠেকাতে না পারলে ফিরতি বলে গোল করেন কুনহা।
এর ১৩ মিনিট পর দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিখুঁত পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন কুনহা। প্রথমার্ধের শেষদিকে স্কোরশিটে নাম লেখান ভিনিসিয়ুস নিজেও। পাকেতার উঁচু পাস ধরে দ্রুত বক্সে ঢুকে নিখুঁত প্লেসিংয়ে বল জালে পাঠিয়ে ব্রাজিলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।


