একটি বুকফাটা আর্তনাদ আর সুবিচারের অন্তহীন অপেক্ষা এই নিয়েই কাটছে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার ধলা ইউনিয়নের তেউরিয়া গ্রামের তারু খানের দিনরাত্রি। চার মাস আগে হারিয়েছেন কলিজার টুকরো মেয়ে সানিয়া আক্তারকে। কিন্তু মেয়ের মৃত্যুর চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কাটেনি সেই নির্মম ঘটনার রহস্যের জট। চোখের জল মুছতে মুছতে আজ এক অসহায় বাবা সানিয়া হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আকুতি জানিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার শুরু থেকেই সানিয়ার হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার এক নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে একটি মহল। গত পাঁচ মাস আগে যখন পুলিশ সানিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে, তখন থেকেই সানিয়ার আপন চাচাতো ভাই ও বাড়ির কিছু লোক ঘটনাটিকে (আত্মহত্যা) বলে চালিয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু একজন বাবার মন তা মেনে নেয়নি। শুরু থেকেই পরিবারের দাবি ছিল অনড় সানিয়াকে পরিকল্পিত ও নির্মমভাবে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
সোনিয়ার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধারের দুই দিন পর থেকে আসামিদের মধ্যে কয়েক জন বাড়ি ছাড়া অভিযোগ রয়েছে। তখন সোনিয়ার বাবার সন্দেহ আরো বেড়ে যায়, তিনি বলেন আমি কোনো মামলা করিনি তাহলে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে কেন। পরবর্তী সময়ে ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হন সোনিয়ার পিতা তারু খান। তিনি বাদী হয়ে আজিম খান, জুয়েল খান, সোহেল খান, সুরুজ খান, আছমা বেগম, রিতা বেগম এবং চাঁন মিয়া খানসহ মোট ৭ জনকে আসামি করে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর দীর্ঘ চার মাস পর সম্প্রতি কবর থেকে সানিয়ার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। নতুন করে ও সুক্ষ্মভাবে তদন্তের স্বার্থে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে তার দেহাবশেষ। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়া সচল থাকলেও থামেনি আসামিপক্ষের তৎপরতা। সানিয়ার বাবার অভিযোগ, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার আগেই আসামিদের বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে তাদের স্বজনরা।
বিচারের বাণীকে নীরবে নিভিয়ে দিতে তারা এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং মামলার গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সানিয়ার বাবা তারু খান বলেন, যদি রামিসা হত্যা মামলার রায় মাত্র ১০-১৫ দিনের ভেতর দেওয়া সম্ভব হয়, যদি তার তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত হাতে পাওয়া যায়, তবে আমার মেয়ের ক্ষেত্রে কেন দেরি? আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আকুল আবেদন জানাই, তিনি যেন নিজে এই অকালপ্রয়াত মেয়েটির দিকে তাকান। সানিয়া হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে তিনি যেন আমাদের পাশে দাঁড়ান।
একটি অবুঝ মেয়ের অকাল মৃত্যু, আর সেই মৃত্যুর পেছনে লুকিয়ে থাকা সত্যকে আড়াল করার অপচেষ্টা তেউরিয়া গ্রামের বাতাসকে আজ ভারী করে তুলেছে। সানিয়ার পরিবার এখন শুধুই একটি নিরপেক্ষ তদন্ত রিপোর্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর মানবিক হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় দিন গুনছে, যেন কোনো অপরাধী পার পেয়ে না যায়।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

