বর্তমান বিএনপি সরকারের নীরবতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মানবতাকে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তার দোসররা দুর্বলতা হিসেবে দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা গাজী মুহাম্মাদ আবদুর রহীম রুহী। তিনি বলেন, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নেত্রকোনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর দায়ে বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নের নির্দেশদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সীমান্তে ভারত কর্তৃক নির্বিচারে বাংলাদেশী হত্যা বন্ধের দাবিতে নেত্রকোনা জেলা খেলাফত ছাত্র আন্দোলন এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
মাওলানা রুহী বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের নানা জুলুম-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে বলেন, “শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের মনে রাখতে হবে, তারা দেশে হাজার হাজার নিরীহ আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতাকে হত্যা করেছে, আহত করে চিরতরে পঙ্গু করেছে। বিডিআর বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা অফিসারকে হত্যার মাধ্যমে দেশের সীমান্ত সুরক্ষাকে ধ্বংস করেছে। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে অসংখ্য আলেমকে হত্যা এবং রাস্তা থেকে নিরীহ পথচারীদের ধরে ‘আয়নাঘর’ এর টর্চার সেলে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বন্দি রেখেছে।”
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে চৌদ্দশো ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হয়েছে। বিএনপি ও বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর জীবন অন্ধকার করে দিয়েছে এই দল। ছাত্রলীগ-যুবলীগ দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনকে মাদক ও অস্ত্রের গুদামে পরিণত করে শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে এবং হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাড়ে বন্দুক রেখে ১৭ বছর মানুষের ওপর জুলুম করা শেখ হাসিনা কীভাবে ফের বাংলাদেশে রাজনীতি করার স্বপ্ন দেখেন? এ দেশে তাদের রাজনীতি করার আর কোনো সুযোগ নেই। ইতিহাস সাক্ষী, আওয়ামী লীগ ইসলাম ও দেশের চিরশত্রু।”
আসন্ন ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান মাওলানা রুহী। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা রুখতে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। এছাড়া নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা বন্ধ হচ্ছে না দাবি করে, সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে কোমর সোজা করে শক্ত হাতে পাল্টা জবাব দেওয়ারও জোর আহ্বান জানান এই খেলাফত নেতা।
মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ফাহিম রহমান খান পাঠান, জেলা খেলাফত আন্দোলনের নেতা মাওলানা আব্দুর রউফ, মাওলানা আব্দুস সালাম, মাওলানা মোস্তফা জিহাদী, খেলাফত যুব আন্দোলনের জেলা সভাপতি মুফতী মুসা শেখ, খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল মোতালিব খান, ছাত্র আন্দোলন নেত্রকোনা জেলা শাখার নেতা মাওলানা বীন ইয়ামিন রুমী, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল ওয়াদুদ এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন নেতা মারুফ বিল্লাহ প্রমুখ।
মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে মিছিলটি নেত্রকোনা প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
পড়ুন : পঞ্চগড়ে মহিলা দলের নেতৃবৃন্দের সাথে সাংসদ নওশাদ জমিরের মতবিনিময়


