বিজ্ঞাপন

কেবল নিজের পরিবর্তন নয়; সমাজ পরিবর্তনের জন্য কাজ করুন: ডিসি জাহিদ

কেবল নিজের জীবনমানের উন্নয়ন নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি বলেছেন, চাকরি জীবনে কে কত সুবিধা পেয়েছেন বা নিজের জীবনে কত পরিবর্তন এনেছেন, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজকে কী দিতে পেরেছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞাপন


রোববার চট্টগ্রাম প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের জন্য আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্স’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ১৬০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন।


মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আমরা সবাই একটি সুন্দর সমাজ ও সুন্দর রাষ্ট্র চাই। কিন্তু নিজের পরিবর্তনের প্রশ্নে আমরা অনেক সময় অনাগ্রহী থাকি। আমি চাই অন্যদের পরিবর্তন হোক, কিন্তু নিজের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চাই না। এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’


প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখা একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে না পারলে তার কোনো মূল্য থাকে না। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি যেমন পরিবর্তিত হচ্ছে, তেমনি পরিবর্তিত হচ্ছে মানুষের প্রত্যাশা ও সেবার মানদণ্ডও। ফলে সরকারি সেবাকে মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।


জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমি চাকরি জীবনে কী পেলাম, আমার জীবনের কত উন্নতি হলো, আমার সন্তান কোথায় পড়াশোনা করল—এসবের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমি রাষ্ট্রকে কী দিলাম। জনগণের করের অর্থে বেতন নিয়ে, রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আমরা সমাজের জন্য কী অবদান রাখতে পেরেছি, সেটি প্রত্যেকের ভেবে দেখা উচিত।’


তিনি বলেন, সরকারি চাকরি কেবল একটি পদ বা দায়িত্ব নয়; এটি জনগণের প্রতি অঙ্গীকার। তাই সেবাগ্রহীতারা যেন সরকারি দপ্তরে এসে হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।


মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘আজ আপনি যে চেয়ারে বসে সেবা দিচ্ছেন, খুব বেশি দিন পর আপনাকেও সেবাগ্রহীতার আসনে বসতে হবে। তখন আপনি কেমন আচরণ প্রত্যাশা করবেন, সেটি মাথায় রেখে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’


তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি অফিস থেকে বের হয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন—এমন মানুষের সংখ্যা এখনো খুব বেশি নয়। মানুষের এই অসন্তোষ দূর করতে সেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চা বাড়াতে হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মানুষ পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আসার সুযোগ পায় না। তাই কর্মজীবন শেষে যেন আফসোস না থাকে যে আরও ভালো কিছু করা যেত। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক অবদান রেখে যাওয়ার মধ্যেই একজন মানুষের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত।
তিনি বলেন, ‘কোনো প্রশিক্ষণ, কোনো নির্দেশনা বা কোনো আইন একা পরিবর্তন আনতে পারে না। পরিবর্তন তখনই আসে, যখন মানুষ নিজের ভেতরে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও বিবেককে ধারণ করে।’


একটি মানবিক, নিরাপদ ও সেবামুখী সমাজ গঠনে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের অর্জিত জ্ঞান কর্মক্ষেত্রে প্রয়োগ করে ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।


প্রশিক্ষণ কোর্সের সমন্বয়ক হিসেবে সূচনা বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা রহমান মীম। ডিআরটি প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।


২১ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত চলা এ প্রশিক্ষণে অফিস ব্যবস্থাপনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, হিসাব সংরক্ষণ, নিরীক্ষা পদ্ধতি, পিপিআর, পিপিএ এবং তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

পড়ুন- তেহরান-ওয়াশিংটন বৈঠক: সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন